বিএনপির সব কার্যক্রম লন্ডন থেকে পরিচালিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, ‘লন্ডন থেকে সবুজ সংকেত না মেলায় এবং পদ হারানোর ভয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাদশ জাতীয় সংসদে শপথ নিচ্ছেন না।’
সোমবার (২৯ এপিল) দুপুরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের খুলনা বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে আয়োজিত এ বৈঠকে প্রত্যেক জেলা উপজেলায় দলকে সুসংগঠিত করতেও তাগিদ দেন তিনি।
হানিফ বলেন, ‘দু’টি কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নিচ্ছেন না। প্রথমত, বিএনপি লন্ডন থেকে পরিচালিত হয়,এই দলে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। সেই দলের বিরুদ্ধে গিয়ে শপথ নিলে মির্জা ফখরুল পদ হারাবেন। মূলত পদ হারানোর ভয়েই মির্জা ফখরুল ইসলাম শপথ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, বগুড়া থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার নিজ এলাকার ভোটারদের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলেও বগুড়ার ভোটার, এমনকি জনগণের প্রতি তার কোনও দায়বদ্ধতা নেই। তাই তিনি শপথ নিচ্ছেন না।’ তবে আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে বিএনপির বাকিরা শপথ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।
দলের নেতাদের উদ্দেশে হানিফ বলেন, ‘সংগঠন শক্তিশালী হলে অশুভ শক্তির যে কোনও তৎপরতাকে প্রতিহত করা যাবে। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পেলে অশুভ শক্তির তৎপরতা লোপ পায়। আর সংগঠনকে শক্তিশালী করতেই আওয়ামী লীগে নিয়মিত কাউন্সিল হয়।’
জামায়াতে ইসলামীর সংস্কারপন্থী নেতাদের দ্বারা গঠিত রাজনৈতিক মঞ্চের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের খোলস পাল্টে নতুনভাবে জামায়াত আসছে। এদের চরিত্র কিন্তু পরিবর্তন হবে না।’
বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।