পরস্পরকে চাপে রাখার কৌশলে আ.লীগ-বিএনপি

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে সামনে রেখে হঠাৎ করেই পরস্পরকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি। এই চাপে রাখার অংশ হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার মামলা আলোচনায় নিয়ে আসা ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন সমালোচনা করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা রাজনৈতিক অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন। এর বিপরীতে আওয়ামী লীগ সরকার ‘অভ্যন্তরীণ সমস্যায় রয়েছে’ এমন বিবেচনায় উল্টো চাপ সৃষ্টি করতে আন্দোলনের প্রস্তুতির কথা জানান দিচ্ছে বিএনপি।

বিএনপির গত এক সপ্তাহের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সরকারের ‘অভ্যন্তরীণ সমস্যা’ নিয়ে উচ্চকিত বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাধিকবার সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ এনে পদত্যাগ দাবি করেছেন। এমনকি অনতিবিলম্বে ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনও’ চেয়েছেন তিনি। সর্বশেষ, বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আন্দোলনের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল ও সহমর্মী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একাধিক দলীয় প্রধানের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের আলাপ হয়। হঠাৎ করে বিএনপির আন্দোলনের হাঁকডাকের নেপথ্যে ‘রাজনৈতিক কৌশল’কেই ‘কারণ’ বলে মনে করছেন তারা। এসব সূত্র বলছে, আপাতত বিএনপির আন্দোলনের সাংগঠনিক সক্ষমতা বা রাজনৈতিক সক্ষমতা দুটোই অনুপস্থিত। সেক্ষেত্রে কেবলমাত্র ‘চাপের কৌশল’ থেকে আর নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতেই শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আন্দোলনের কথা প্রচার হচ্ছে।

দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন-কমিটি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে নতুন নেতৃত্বকে আগামী দিনের প্রস্তুতি নিতেই আন্দোলনের প্রসঙ্গটি সামনে আনছেন বিএনপির নেতৃত্ব।

দলটির গুরুত্বপূর্ণ একজন দায়িত্বশীল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আন্দোলনের আগে বিএনপি চাইছে সর্বদলীয় ঐক্য। এই সরকারকে আগামীতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের চাপে ফেলতে সর্বদলীয় আন্দোলনের কোনও বিকল্প নেই।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলনের ডাক শুনলে তাদের দলের নেতাকর্মীরাও হাসে। আওয়ামী লীগ তো আমলেই নেয় না। এমন কোনও ইস্যু নেই যে বিএনপি দেশে আন্দোলন করবে।’ ফারুক খান মনে করেন, বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি নেই আন্দোলন গড়ে তোলার। ইস্যুবিহীন কোনও আন্দোলন জমে না।

ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘বিএনপির নেতারা তাদের কর্মীদের চাঙ্গা করে তোলার কৌশল হিসেবে মাঝে মাঝে আন্দোলনের আওয়াজ তোলেন। এর বেশি কিছু নয়। বিএনপির আন্দোলনের ঘোষণা বহুবার নেতারা দিয়েছেন। কিন্তু আন্দোলন আর রাজপথে গড়ায় না। তাদের আন্দোলনের ডাক আওয়ামী লীগ কী আমলে নেবে, বিএনপির নেতাকর্মীরাও আমলে নেন না। এসব হাঁকডাক দিয়ে মূলত আলোচনায় থাকাই বিএনপির কৌশল। বিএনপির আন্দোলনের আওয়াজে আওয়ামী লীগ কোনও চাপবোধ করে না।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি আগে নামুক আন্দোলন নিয়ে, তারপর মন্তব্য করবো।’

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীলরা যেভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারকে কেন্দ্র করে বক্তব্য দিচ্ছে, এগুলোকে চাপ হিসেবে নেয় না বিএনপি। এসব কুতর্ক। প্রশাসনের মধ্যে ছাত্রলীগ ঢুকেছে, এ কারণে প্রশাসনের সঙ্গে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, এরা এমপিদের পাত্তা দেয় না।’

আন্দোলনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ। করোনা ভাইরাসের মধ্যে অরাজক পরিস্থিতিই তার সাক্ষ্য দেয়। বিএনপি এই সরকারের অরাজকতার বিরুদ্ধে, সর্বদলীয় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। বৃহত্তর ঐক্য গড়েই আন্দোলন গড়ে তুলবে বিএনপি।’