দলীয় প্রতীকে কিছুটা সমস্যা থাকলেও চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীকেই অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত যখন থেকে নিয়েছি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কিছু সমস্যা আছে। ইদানীং কিছু সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় বিভেদ ও মারামারির ঘটনাও ঘটে। কিন্তু আমরা নির্বাচনে প্রতীক দিয়ে আবার সামনের নির্বাচনগুলো ওপেন দেবো, এটা সত্য নয়। এমন কোনও চিন্তা আওয়ামী লীগ করেনি।’
মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে ভার্চুয়ালি হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা চৌমুহনীতে ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ উপ-কমিটি।
এ সময় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয়ভাবে না করার সিদ্ধান্ত দিলেও প্রতীক না দিয়ে ঘোমটা পরে বিএনপি নির্বাচন করছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘বিএনপি বলে তারা নির্বাচন করবে না। আবার ইউনিয়ন পরিষদে মার্কা ছাড়া স্বতন্ত্র নির্বাচন করছে। স্বতন্ত্রভাবে সারা দেশেই তারা প্রার্থী দাঁড় করাচ্ছে। আমি বলতে চাই—ফখরুল সাহেব, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে মনোনয়ন বাণিজ্যের কোনও রেকর্ড নেই, কোনও তথ্য নেই, খুঁজে পাবেন না। আপনাদের কেন্দ্রীয় মনোনয়নেই বাণিজ্যের অভিযোগ, জাতীয় থেকে স্থানীয় নির্বাচন সর্বত্রই হচ্ছে। প্রতীক না দিয়ে ঘোমটা দিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্য করছেন।’
এর আগে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচন আসছে, তারা ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা করছে। ১/১১ সৃষ্টির দুঃস্বপ্ন দেখছে। দেশকে অশান্ত করার জন্য এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তির নির্ভরযোগ্য অপশক্তি হচ্ছে বিএনপি। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় মাঝে মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চক্রান্ত হয়।’
দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না দলটির নেতাদের এমন মন্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশের সংবিধানেও নির্দিষ্ট করা আছে, কীভাবে নির্বাচন হবে। সময় মতো সংবিধান মতো নির্বাচন হবে। কে এলো, এলো না তাতে তো আর নির্বাচন বসে থাকবে না।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলনে, নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। দুটো কাজ তারা করতে চেয়েছে। এক. অপকর্মের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যে সমর্থন এই সমর্থনের দুর্গে আঘাত হানতে চেয়েছে। আরেকটি হলো— প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বিরাজমান সুসম্পর্কে ফাটল ধরানোর জন্য তারা সুগভীর চক্রান্ত করছে বলে আমি মনে করি।
এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বক্তব্য রাখেন।