ঢাবি ছাত্রলীগের হল কমিটিতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

১৮ হলের ৯ জনই ময়মনসিংহের

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের হল কমিটি হয়েছিল। পদপ্রার্থীদের দাবির মুখে পাঁচ বছর পর ৩০ জানুয়ারি আবার হল সম্মেলন হয়। গত বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষ নেতারা। এক বছরের জন্য নতুন কমিটি অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। কিন্তু কমিটি ঘোষণার পর পরই পদবঞ্চিতদের একটি অংশ অভিযোগ তোলেন স্বজনপ্রীতির।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পদবঞ্চিতের অভিযোগ—শীর্ষ চার নেতাই নিজেদের বিভাগকে প্রাধান্য দিয়ে কমিটি ঘোষণা করেছেন। বিশেষ করে ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র নিজের জেলা ময়মনসিংহের ৯ জনকে নেতৃত্বে নিয়ে এসেছেন বলে জানান তারা।

কমিটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ও ঢাবির শীর্ষ এই চার নেতার অঞ্চল থেকেই সবচেয়ে বেশি নেতা স্থান পেয়েছেন হল কমিটিগুলোতে। ময়মনসিংহ জেলা, জামালপুর ও নেত্রকোনাসহ ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে মোট ৯ জন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন।

ময়মনসিংহ জেলা থেকে নেতৃত্বে এসেছেন মাস্টারদা সূর্যসেন হলের সভাপতি মারিয়াম জামান খান সোহান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সভাপতি মেহেদী হাসান শান্ত, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সভাপতি আজহারুল ইসলাম মামুন, বিজয় একাত্তর হলের সভাপতি সজীবুর রহমান সজীব, রোকেয়া হলের সাধারণ সম্পাদক অন্তরা দাস, বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল হাওয়া আঁখি, বেগম সুফিয়া কামাল হলের সভাপতি পূজা কর্মকার। জামালপুর জেলা থেকে এসেছেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাধারণ সম্পাদক মিশাত সরকার এবং শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক হলের সভাপতি হয়েছেন নেত্রকোনার কামাল উদ্দীন রানা।

এ ছাড়া লেখক ভট্টাচার্যের খুলনা বিভাগ থেকে পদ পেয়েছেন ৭ জন, আল নাহিয়ান খান জয়ের বরিশাল বিভাগ থেকে ৫ জন এবং সাদ্দাম হোসেনের রংপুর বিভাগ থেকে ৪ জন। মোট ৩৬ জনের মধ্যে ২৫ জনই ওই চার বিভাগের।

এর বাইরে ঢাকা থেকে ৪ জন, চট্টগ্রাম থেকে ৫ জন, সিলেট থেকে একজন ও রাজশাহী থেকে একজন আছেন কমিটিতে।

নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে পদবঞ্চিত কয়েকজন বলেছেন, এলাকাপ্রীতির কারণে যোগ্যরা বাদ পড়েছেন কমিটি থেকে। নেতাদের এলাকার প্রার্থীরা সবসময়ই আলাদা সুবিধা পান। এভাবে চললে সংগঠনের ক্ষতি হতে পারে।

স্বজনপ্রীতির এ অভিযোগ সম্পর্কে জানতে ছাত্রলীগ ঢাবির শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি কমিটিতে সকল অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে, সেটা রয়েছেও। কিছুটা কমবেশি হয়েছে। দ্রুত কমিটি গঠনের স্বার্থে, সমন্বয় করে সার্বিকভাবে সংগঠনের গতিশীলতা চলমান রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। পদপ্রত্যাশী যারা আসতে পারেননি তাদেরকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাহী কমিটিতে সংযোজন করে নেবো।’