বিএনপির স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দেবো না: মায়া

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, ‘গায়ে এক ফোটা রক্ত থাকতে খালেদা জিয়া এবং বিএনপির স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দেবো না। এই পরিবার ষড়যন্ত্রকারী পরিবার। বাংলাদেশে এদের রাজনীতি করার কোনও সুযোগ নেই। এখন থেকে এটিই হবে আমাদের শপথ। ২০২৩-২৪ সালের নির্বাচন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মাধ্যমে আমরা এর জবাব দেবো।’

শনিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত বিচারের রায় কার্যকর করার দাবিতে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা প্রসঙ্গে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘হামলার পর কয়েকজনের লাশ মেডিক্যালে নিয়ে গেছি। কিন্তু সেইখানে কোনও ডাক্তার নেই। ব্লাড ব্যাংকে গেছি রক্ত দরকার, কিন্তু ব্লাড ব্যাংকও তালা দেওয়া। চিকিৎসা পেলে হয়তো অনেককেই বাঁচাতে পারতাম। শুধুমাত্র চিকিৎসার অভাবে অনেকে মারা গেছেন। ষড়যন্ত্র কত প্রকার হতে পারে, তা যদি শিখতে চান তাহলে জিয়া পরিবার থেকে শিখতে পারবেন।’

বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাবস্যা-পূর্ণিমায় এখনও সারাশরীরে ব্যাথা হয়। রক্তবমি হয়, চোখ ফুলে যায়। এখনও শরীর থেকে স্প্লিন্টার বের হয়। ১৮ বছর রাতে ঘুমাতে পারি না। আর ওই খুনি পরিবার বাংলাদেশের ক্ষমতায় যেতে চায়। গায়ে এক ফোঁটা রক্ত থাকতে বিএনপির স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দেবো না।’

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মায়া বলেন, ‘ব্যবহার ভালো করতে হবে। ঘরে ঘরে যেতে হবে। নিজেদের ভুল বোঝাবুঝি থাকলে এখনই মীমাংসা করে ফেলেন। আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য পরীক্ষিত নির্বাচন। বাঁচা-মরার নির্বাচন। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে দেবে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে থাকতে এটা হতে দিতে পারি না। বিজয় আমাদের হবেই।’

আলোচনা সভায় আরও ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাড. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সাল, ১৯৭৫ সাল ও ২০০৪ সালের ঘাতকরা একই শক্তি এবং একসূত্রে গাঁথা। এদের বিচ্ছিন্ন করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। এখনও তারা তৎপর আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য। এই গোষ্ঠী গণতন্ত্রকে শেষ করে দিতে চায়। আমাদের সব অর্জন ও উন্নয়নকে শেষ করতে চায়। তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মূল শক্তি হলো জনগণ। আওয়ামী লীগ বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করে না। আর বিএনপি নামক দলটির জন্ম আইএসের প্রেসক্রিপশন অনুয়ায়ী। এখনও তারা সেভাবে বাংলাদেশে রাজনীতি করছে। বাংলাদেশের সব অর্জন ধ্বংস করেছে। রাষ্টযন্ত্রের বিরোধিতা করছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীশক্তি।’

২১ আগস্ট বাংলাদেশ আহত-নিহত পরিবার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সভায় আরও ছিলেন– ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আলম মুরাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওসার প্রমুখ।