নির্বাচনে জোর দেখান, রাস্তায় পুলিশকে ইট মেরে নয়: মায়া

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, সামনে নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে আর কোনও খেলা খেলবেন না। নির্বাচনে আসেন। নির্বাচনে জোর দেখান। রাস্তায় পুলিশকে ইট মেরে জোর দেখাবেন না। তাহলে কিন্তু খবর হয়ে যাবে।

বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার বক্তব্য ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে’ এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মায়া বলেন, নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। তত্বাবধায়ক সরকার বাদ। এখন হবে গিয়ে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। শেখ হাসিনার সরকার তার রুটিন ওয়ার্ক করবে। এর ডানে-বামে যাবার সুযোগ নাই।

তিনি বলেন, গুম-খুন, আগুন, সন্ত্রাস সব তাদের ডিকশনারিতে। বিএনপি জানে, নির্বাচনে গেলে তাদের কী অবস্থা হবে। তাই তারা নির্বাচনে যেতে চায় না। এটা জোরের জায়গা না। সন্ত্রাসের জায়গা না।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের ওপর হামলা করবেন, ঢিল মারবেন, পুলিশ কি আঙুল চুষবে? পুলিশ জনগণকে রক্ষার স্বার্থে এসব কিছু প্রতিহত করবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, নেত্রী ভারতে গিয়েছেন। তারা (বিএনপি) বলছে, আমরা কিছু আদায় করতে পারি নাই। ভারতের থেকে যা কিছু আদায় হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই।

আন্তর্জাতিক মহলসহ সকলে শেখ হাসিনার ভারত সফরকে ইতিবাচক ভাবে দেখছে শুধু বিএনপিই তা পারছে না মন্তব্য করে সাবেক এই খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের দেওয়া নেওয়ার কোনও বিষয় নাই। আওয়ামী লীগ দেশের স্বার্থ বিসর্জন দেয়নি। সম্মানের সঙ্গে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রিয় নেত্রী কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনও সুযোগ নেই। ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূত আমরা দেখেছি। ন্যাড়া বেলতলায় একবারই যায়।  বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা সেটা তাদের ব্যাপার৷ এ বিষয়ে কোনও সমঝোতা নাই।

কামরুল ইসলাম বলেন, তাদের (বিএনপি) বলবো এসব আলাপ বাদ দিয়ে ভাল হয়ে যান। নির্বাচন ও গণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন করা যায়। গণ আন্দোলনের মুরোদ নাই, তাই বলবো, নির্বাচনে আসুন। নির্বাচনই সমাধান।

সংগঠনের সভাপতি শেখ ইকবাল খোকনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা।