রিজার্ভ সিজনাল, কখনও বাড়ে আবার কখনও কমে। রিজার্ভের বাড়া-কমা নিয়ে ঘাবড়ানোর কারণ নেই। রিজার্ভ থেকে এক্সট্রা খরচ করায় পরিমাণটা কমেছে। এক মাসের ফরেন কারেন্সি দিয়েই আইএমএফের লোন পরিশোধ করা সম্ভব। ১০ বার লোন নিয়ে তা শোধ করেছে বাংলাদেশ। গুজব সন্ত্রাসীরা রিজার্ভ গিলে ফেলেছে বলে অপপ্রচার করলেও বাস্তবে তার হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকে স্বচ্ছতার সঙ্গে রয়েছে।
সোমবার (২১ নভেম্বর) রাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাপ্তাহিক আয়োজন ‘রাজনীতির সাতকাহন’ এ এসব কথা বলেন বক্তারা। এবারের আলোচ্য বিষয় ছিল 'ব্যাংকের টাকা গেলো কোথায়? প্রকৃত দেউলিয়া আসলে কারা?'
আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন এবং সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ এ আরাফাত।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। অনুষ্ঠানটি লাইভ করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।
ড. জামাল উদ্দিন বলেন, তিন-সাড়ে তিন মাসের আমদানির পরিমাণ ইউএস ডলার (রিজার্ভ কারেন্সি) থাকলেই হয়। রিজার্ভ সিজনাল, কখনও বাড়ে আবার কখনও কমে। সামনে ডিসেম্বর, ক্রিস্টমাস। এই মাসে এক্সপোর্ট বাড়বে। রিজার্ভের বাড়া-কমা নিয়ে ঘাবড়ানোর কোনও কারণ নেই।
আইএমএফ তার সদস্য দেশগুলোকে লোন দেয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সদস্য হিসেবে লোন পাওয়ার অধিকার রাখে। এই লোনের বিপরীতে আমরা তাদের সুদ দেই। এক্সপার্ট এবং রেমিট্যান্সের মাধ্যমে প্রতি মাসে আমরা সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার ফরেন কারেন্সি পাই আর আইএমএফের লোন হলো ৪.৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে আমরা এক মাসেই এই লোন পরিশোধ করতে পারি। তাদের কাছ থেকে আমরা ১০ বার লোন নিয়েছি, তা ফেরতও দিয়েছি।
মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ২০২১ সালে আমাদের রিজার্ভ বেড়ে সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এটা নিয়ে তো কেউ বিতর্ক করছে না। সেটি ২০২২ সালে এসে ১৪ মাসে কমে ৩৫.৮ বিলিয়ন ডলার হলো। রিজার্ভ থেকে এক্সট্রা খরচ করায় পরিমাণটা কমেছে। এর মধ্যে রয়েছে করোনাকালের অতিরিক্ত ব্যয়, করোনা পরবর্তীকালে অতিরিক্ত ডিমান্ড ফিলাপ করতে খরচ বৃদ্ধি, আমদানি পণ্যের দামবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধিও রয়েছে।
রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে না গেলে এই জিনিসটা বাংলাদেশ হজম করতে পারতো না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ইমপ্লোশন হতো, এক্সপ্লোশন নয়। অর্থনীতিটা ভেতরে ডুবে যেতো। নভেম্বরে আরও দুটি পেমেন্ট করায় রিজার্ভ ৩৪.৩ বিলিয়ন ডলার। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এসব পেমেন্ট করা হয়েছে। এখানে কোনও লুকোচুরি নাই। এর সঙ্গে দেশি-বিদেশি কারও কোনও দ্বিমত নই।