আওয়ামী লীগের বিগত জাতীয় সম্মেলনগুলোতে কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র নেতাদের প্রস্তাব ও সমর্থনে দলটির নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে আসছে। এবার ২২তম সম্মেলনে তৃণমূল নেতাদের প্রস্তাব ও সমর্থনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ এই দুই পদে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) শেষবেলায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে আগামী তিন বছরের জন্য আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।
আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের একপর্যায়ে নেতৃত্ব নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করেন সম্মেলনের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। তিনি দলের সভাপতি পদে নাম প্রস্তাব করার আহ্বান করলে কাউন্সিলররা একযোগে শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করেন।
পরে বিদায়ী কমিটির সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নাম নতুন সভাপতি পদে প্রস্তাব করেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক। তার প্রস্তাবে সমর্থন করেন দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। এ সময় তাতে সমস্বরে সমর্থন জানান কাউন্সিলররা। তাদের মতামতের ভিত্তিতে শেখ হাসিনাকে সভাপতি ঘোষণা করেন ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন।
সভাপতি নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নাম একই পদে নতুন করে প্রস্তাব করেন নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তার প্রস্তাবে সমর্থন জানান ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ। অন্য কোনও প্রার্থী না থাকায় দলটির নতুন সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
এর মধ্য দিয়ে টানা দশমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেইসঙ্গে টানা তিনবারের মতো দলটির সাধারণ সম্পাদক হন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তারপর কাউন্সিলে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পদে মনোনীত নেতাদের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ সময় দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্যের পাশাপাশি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সম্পাদকমণ্ডলীর তিনটি পদ ছাড়া বাকিদের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে দুপুর দেড়টার আগে শেখ হাসিনার বক্তব্যের মাধ্যমে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়। সেখানে আট বিভাগ থেকে আট জন নেতা বক্তব্য রাখেন। পরে ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র সংশোধন শেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালের ২১তম সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।
অধিবেশনে কাউন্সিলরদের উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেখানেই থাকি না কেন আমি আছি আপনাদের সঙ্গে। আমি চাই আপনারা নতুন নেতা নির্বাচন করুন। দলকে সুসংগঠিত করুন। নতুন আসতে হবে- এটা হলো সবসময়... । পুরাতনের বিদায় নতুনের আগমন এটাই চিরাচরিত নিয়ম। এই কথা বলে আমি আপনাদের থেকে অনুমতি চেয়ে নিয়ম অনুযায়ী ২০১৯ সালের সম্মেলনে যে কার্যকরী সংসদ নির্বাচিত হয়েছিল সেটা বিলুপ্ত ঘোষণা করছি। নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছি।’
এ সময় ‘না না’ বলে চিৎকার করেন কাউন্সিলরা। তাদের থামাতে না পেরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলে ওঠেন, ‘এরকম করলে হবে না তো...’।