আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নয়াপল্টনে মোটামুটি একটা সমাবেশ হয়েছে। ৫৪ দল একজন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নেমেছে আজ। তারা ভুয়া, সেখানে ৫৪টি ঘোড়া আজ ডিম পাড়বে।’
বুধবার (১১ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এই কর্মসূচি পালন করছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়েছে, তারা নাকি দেশ মেরামত করবে। দেশ মেরামত তো করেন শেখ হাসিনা। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের স্বাধীনতা বাঁচবে না, গণতন্ত্রের বস্ত্র হরণ করবে। তাদের হাতে আমরা দেশকে ছেড়ে দিতে পারি না।’
ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকের খবর জানেন, পল্টনে মোটামুটি একটা সমাবেশ হয়েছে। ১২ দলীয় জোট দেখলাম বিজয় নগরে সমাবেশ করছে, সব মিলিয়ে ২৪ দল। ৭ দলীয় জোট প্রেস ক্লাবের সামনে চেয়ার পেতে বসে আছে, মঞ্চে ২০ জন, সামনে সাংবাদিকসহ আরও ১৫ জন। একটা পর্যন্ত ৩ দল উপস্থিত ছিল, চার দল নেই। ৭ দলীয় ঐক্যজোট, তারপর সমমনা ১২ দল, বিএনপির সমমনারা দেখলাম। ওই এলাকা (পল্টন) জুড়েই আছে।’
তিনি বলেন, ‘তারা বসে আছে ফুটপাতের ওপর, মঞ্চও সেটা, শ্রোতাও সেখানেই। সবাই ফুটপাতকেন্দ্রিক। তারপরে এলডিপিকে দেখলাম সেই দৃশ্যপটে। কয়েকজন হাতে গোনা বসে আছে। ৫৪ দল আজকে একজন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। কী হবে? ঘোড়ার ডিম পাড়বে। ৫৪টি ঘোড়ার ডিম পাড়বে, ৫৪টি বিরোধী রাজনৈতিক দল। ভুয়া ভুয়া ভুয়া—এটা গরুর হাট।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রাষ্ট্রকে মেরামত করবে? রাষ্ট্রকে আবার ক্ষমতা পেলে তারা ধ্বংস করবে। এই দেশের গণতন্ত্র বাঁচবে না। তারা ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাঁচবে না। তারা ক্ষমতায় এলে স্বাধীনতার আদর্শ বাঁচবে না। তারা ক্ষমতায় এলে গণতন্ত্রের বস্ত্রহানি ঘটবে। এই অপশক্তি জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক, সাম্প্রদায়িকতার পৃষ্ঠপোষক।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি নামক এই অপশক্তিকে বাংলার মাটিতে... এদের হাতে ক্ষমতা আমরা তুলে দিতে পারি না। বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। কী দেখাবেন আপনারা? মুখে মিথ্যাচার আর বিষোদগার। আপনাদের নেই মেট্রোরেল, নেই পদ্মা সেতু, নেই বঙ্গবন্ধু টানেল, নেই উড়াল সেতু, নেই আন্ডারপাস, নেই একদিনে শত সেতু, কে করেছে? শেখ হাসিনা।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং উত্তর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করছে। আমি কোনও কোনও অনলাইনে দেখলাম যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। পাল্টাপাল্টি কেন? ১০ জানুয়ারি তো বিএনপির হৃদয়ে নেই, চেতনাতেও নেই। ১০ জানুয়ারি তারা করেনি।’
তিনি বলেন, ‘গতকাল আমাদের কেন্দ্র করেছে, আজকে মহানগর এবং অন্যান্য সংগঠন করছে। এটা আমাদের কর্মসূচি। এখানে পাল্টাপাল্টির কোনও বিষয় নেই। কার সঙ্গে পাল্টাপাল্টি করবো। কীসের পাল্টাপাল্টি করবো। ১০ ডিসেম্বর তো এই নগরীতে বিজয় মিছিল হবে। ১০ জানুয়ারি তো এমনও কথা ছিল তারেক রহমান এসে নেতৃত্ব দেবেন। ১০ ডিসেম্বর এমনও কথা ছিল— খালেদা জিয়া জেল থেকে এসে বিজয় মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন। সরকারের পতন অনিবার্য। কী হলো? ১০ ডিসেম্বর ভুয়া, ৩০ ডিসেম্বর ভুয়া।’