নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি বলে দাবি করেছেন গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা খান। তিনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া কারণ দর্শানোর চিঠির জবাব দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি করেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আজমত উল্লা খানকে দুই দফা চিঠি দেয় ইসি। রবিবার (৭ মে) বিকাল ৩টায় ইসিতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী আজমত উল্লা।
তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন কিনা— এমন প্রশ্ন করলে তা এড়িয়ে যান। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল জানান, আজমত উল্লা খান বিনয়ের সাথে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ইসির কাছে বক্তব্য তুলে ধরে সাংবাদিকদের আজমত উল্লাহ খান বলেন, ‘আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমার বক্তব্য ওনারা নিয়েছেন। তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন, যে সিদ্ধান্ত আসবে মেনে নেবো। আমি সবসময় আচরণবিধি মেনে চলবো।’
মনোনয়নপত্র জমার সময় আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি দাবি করে তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক নয়, মিছিল নিয়ে মনোনয়ন জমা দিইনি, স্লোগান দিইনি। আমি ৫ জন নিয়ে গিয়েছি। আপনারা (সাংবাদিক) ছিলেন কমপক্ষে দেড়শ’ জন।’
তিনি জানান, সভা মন্ত্রী-এমপিরা করেছেন, হয়তো অজ্ঞতার জন্য হতে পারে। এটা সিটি করপোরেশনের বাইরে। ওনাদের (মন্ত্রীদের) ডাকলে তারা বলতে পারবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমি আমার অবস্থান সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। আমার জ্ঞাতসারে আমি আচরণবিধি লঙ্ঘন করিনি। স্পষ্টভাবে কমিশনে বলেছি, ভবিষ্যতে আচরণবিধি ভঙ্গ হবে না। সেটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, এটা সব সময় করি আমি।’
প্রসঙ্গত, আগামী ২৫ মে গাজীপুর সিটিতে ভোট হবে। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শোডাউন করা এবং প্রার্থীর পক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে নৌকার এ প্রার্থীকে কমিশনে তলব করা হয় এবং কেন প্রার্থিতা বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
রবিবার বিকাল ৩টার দিকে নির্বাচন ভবনে সিইসি ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের উপস্থিতিতে আজমত উল্লা খানের বক্তব্য নেওয়া হয়। আধ ঘণ্টা ধরে এ শোকজের বক্তব্য শোনার পর সিইসি এবং আজমত উল্লা সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন।