আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ঢাকায় সন্ত্রাসীরা সমাবেশ ডেকেছে। যারা সমাবেশ করছে তাদের চেহারা দেশের মানুষ চেনে। তারা আবারও অগ্নিসন্ত্রাসের ষড়যন্ত্র করছে। তারা এবার যে হাতে আগুন দেবে সেই হাত ভেঙে দেওয়া হবে।
বুধবার (১২ জুলাই) বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘এই সমাবেশের কারণে বিএনপির সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেছে। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। বিএনপির গণতন্ত্র ছিল কারফিউ গণতন্ত্র। জিয়াউর রহমানের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, কারফিউর মধ্যে মারা গেছে। তারা হত্যার রাজনীতি করে। বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না।’
মার্কিন কূটনীতিকদের প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি দেশের বাইরে ‘ঘটক’ ধরেছে। সেই ‘ঘটকরা’ এখনও বাংলাদেশে আছে। ৭১ সালে আমাদের অনেক বন্ধু ছিল। সেই বন্ধুরা এখনও আমাদের সঙ্গে আছে।’
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘বিএনপি শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়। তাদের নেতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। তারা ২০-২৫ হাজার লোক নিয়ে এক দফা ঘোষণা করেছে। তাদের মোকাবিলা করা হবে।’
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করছে। তারা শেখ হাসিনার পতনের এক দফা ঘোষণা করেছে। ১/১১ এর মতো বাংলাদেশে আর কোনও সরকার হতে দেওয়া হবে না।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশিরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে। এটি মেনে নেওয়া হবে না। সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে। আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। সব সংকট মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত থাকবো।’
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘অল্প সময়ের নোটিশে আজ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এই উত্তাল তরঙ্গে বিএনপির সব ষড়যন্ত্র ভেসে যাবে।’
আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে। সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসায় দেশের উন্নয়ন হয়েছে।’
বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বিদেশি বন্ধুরা আমাদের উন্নয়নের সহযোগী। আপনাদের আমরা সম্মান করি। কিন্তু রক্তে লেখা বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আপনারা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে দেশের জনগণ মেনে নেবে না।’
ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সমাবেশস্থলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, প্রচার সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হোসেন খান নিখিল, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ঢাক দক্ষি সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যরিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন, শাহাবুদ্দিন ফরাজী, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্র প্রমুখ উপস্থিত আছেন।