বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা আমার দেশের অগণিত মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে তাদের সঙ্গে আপস নয়। যাদের হাতে রক্তের দাগ তাদের সঙ্গে কোনও সংলাপ নয়।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় শান্তি সমাবেশ। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের। ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য রাখেন।
সংলাপের প্রসঙ্গ টেনে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আমার মায়ের কোল যারা খালি করেছে, যারা আমার দেশের অগণিত মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে, যাদের হাতে রক্তের দাগ, তাদের সঙ্গে আপস নয়। যাদের হাতে রক্তের দাগ তাদের সঙ্গে কোনও সংলাপ নয়। যাদের হাত রক্তে রঞ্জিত তাদের সঙ্গে আপস আমরা করতে পারি না। আমরা একাত্তরের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করতে পারি না। জয় বাংলা স্লোগান ও ৭ মার্চের চেতনার সঙ্গে আপস করতে পারি না। বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বেইমানি করতে পারি না। আমাদের নেত্রী অনেক দয়া দেখিয়েছেন। অনেক মহানুভবতা দেখিয়েছেন।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দূরদূরান্ত থেকে আমরা লোক আনতে পারিনি। আমাদের হাতে সময় ছিল না। ঢাকা ও আশপাশে আমাদের নেতাকর্মীরা ২৪ ঘণ্টার নোটিশে এসেছে। আর উপস্থিতি দেখলে.. এরই নাম আওয়ামী লীগ।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন খেলতে নামবে কোনও অপশক্তি সামনে দাঁড়াতে পারবে না। তৈরি হয়ে যান। প্রস্তুত হয়ে যান। একটানা কর্মসূচি। সামনে আগস্ট, শোকের মাস। তারপর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর। এরমধ্যে ফাঁক নেই। কর্মসূচি চলবে। একেক সময় একেক রকম কর্মসূচি আসতে পারে। শোকের মাসে শোকের কর্মসূচি। পাশাপাশি গণসংযোগ চলবে। নেত্রীর নির্দেশ আমরা মেনে চলবো। তার শৃঙ্খলা আমরা মেনে চলবো। নেত্রীকে অনুসরণ করবো।
তিনি এ সময় শোকের মাসের গাম্ভীর্য যেন নষ্ট না হয় সেই নির্দেশনা দিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও বঙ্গবন্ধুর পরিবার ছাড়া অন্য কারও ছবি দিয়ে নিজের ছবির প্রচার করবেন না।
গত ৪৮ বছরের ইতিহাসে শেখ হাসিনার মতো জনপ্রিয় নেতা বাংলাদেশ পায়নি দাবি করে কাদের বলেন, বিশ্বনেতৃত্ব যখন শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন তখন বাংলাদেশের কিছু মানুষ তা সহ্য করতে পারে না। শেখ হাসিনার প্রশংসা তাদের ভালো লাগে না। কারণ শেখ হাসিনা মানেই উন্নয়ন। শেখ হাসিনা মানেই সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন। শেখ হাসিনা মানেই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার টার্গেট। গত ৪৮ বছরে শেখ হাসিনার মতো একজন দক্ষ প্রশাসককে ক্ষমতার মসনদে পাইনি। এমন সফল কূটনীতিক আমরা পাইনি। সেই শেখ হাসিনাকে আমরা হারাতে পারি না। বঙ্গবন্ধুকন্যাকে তারাই হারাতে চায় যারা ভোট করতে গেলে তার সঙ্গে হেরে যাবে। তারা জানে ভোট করে শেখ হাসিনাকে হারানো যাবে না। এ জন্যই তাদের এত ভয়। শেখ হাসিনা থাকলে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় যাবে, এটা তারা নিশ্চিতভাবে জানে।
সহযোগী সংগঠনকে উদ্দেশ করে কাদের বলেন, আর সময় নেই। যুবলীগকে যুব সমাবেশ, ছাত্রলীগকে ছাত্র সমাবেশ করতে হবে। মহিলাদের বলবো মহিলা সমাবেশ করতে হবে। শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশে।
সংসদ উপনেতা ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহাবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, প্রচার সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুর নাহার চাঁপা, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ প্রচার সম্পাদক আব্দুল আউয়াল শামীম, কেন্দ্রীয় নেতা শাহাবুদ্দিন ফরাজী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হোসেন খান নিখিল, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি, কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্র, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।