বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা থেকে শুরু করে সব ইতিবাচক অর্জন আওয়ামী লীগের অধীনে হয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, দেশ ও মানুষের স্বার্থে ইতিবাচকতার এই ধারা বজায় রাখতে হবে।
শরিবার (২২ জুলাই) কুমিল্লা শহরে টাউন হল মিলনায়তনে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে উন্নয়নের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে মাত্র সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধু যে যে অগ্রগতি অর্জন করেছিলেন তা ছিল অকল্পনীয়। অথচ নিন্দুকেরা তারই কন্যা শেখ হাসিনার অর্জনকে যেভাবে অস্বীকার করছে একইভাবে বঙ্গবন্ধুর অর্জনকেও মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘একটা সময় বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৩৯০ ডলার, যা এখন ২৮০০ ডলারের ওপরে। অন্যদিকে বাংলাদেশের গড় মাথাপিছু ঋণ এক সময় ১০ হাজার ছিল, যা বর্তমানে ৯৫ হাজার টাকা।’
আয় ও ঋণের অনুপাতে অগ্রগতি করার পরও নিন্দুকেরা ঋণের অঙ্ক দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কখনও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়নি। এই ঋণ দেশের জনগণের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে, যার সুফল এখন মানুষ পাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ফলে দেশ আজ দ্রুত গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির শাসনামলে কৃষকরা সারের দাবিতে মিছিল করতে গেলে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন না বাড়ানোয় মানুষের জীবনে অসহনীয় দুর্ভোগ নেমে এসেছিল। আওয়ামী লীগের আমলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশকে আবার খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত করে বিএনপি সরকার।’
আওয়ামী লীগের নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যে গ্রুপিং বা বিভাজন থাকলে সেই সুবিধা পুঁজি করে বিরোধীরা দেশে অরাজকতা এবং অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাবে।’
এ সময় কুমিল্লার উন্নয়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লা জেলার উন্নয়নে যখন যতোটুকু দরকার তা বরাদ্দ দিতে কখনও কার্পণ্য করিনি। কিন্তু সেই অর্থ সঠিকভাবে এবং সঠিক সময়ে ব্যয় করার দায়িত্ব আপনাদের।’
কুমিল্লা জেলায় পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য কুমিল্লা ওয়াসার প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আধুনিক ও উন্নত কুমিল্লা জেলার জন্য এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’ এছাড়াও কুমিল্লা জেলার উন্নয়নে দাতা সংস্থা যেমন- বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক অথবা জাইকার সহায়তায় যে কোনও প্রকল্প নিতে সর্বতো সহযোগিতা করবেন বলেও জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাবলুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ছিলেন– কুমিল্লা-৭ (তিতাস ও হোমনা) আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র আরফানুল হক রিফাত, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।