আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সব শক্তিকে নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ের লক্ষ্যে অভিযাত্রা শুরু করবে আওয়ামী লীগ। আসন্ন আগস্টে শোকের কর্মসূচি পালনে আর্থিক সংকট পড়লেও কোনও ধরনের চাঁদাবাজি করা যাবে না।
মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সহযোগী সংগঠনগুলো এবং ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ চায় সংঘাতমুক্ত, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু জনসমর্থনে অবিশ্বাসী বিএনপি নির্বাচনে সংঘাত করতে দেশে আগ্নেয়াস্ত্র এনে মজুত করছে।
জিয়াউর রহমান জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসেনি উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় জনগণের প্রতি বিএনপির আস্থা নেই। তারা জানে নির্বাচন হলে কী ফল হবে।
তিনি বলেন, বিদেশিদের কীভাবে বলব, বিএনপি এমন একটা দল যে দলকে গ্যারান্টি দিতে হবে নির্বাচন হলে তাদের জয় সুনিশ্চিত। নতুবা নির্বাচনের চলমান ব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল হবে না।
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি ওবায়দুল কাদের বলেন, চোখ-কান খোলা রাখুন। সতর্ক থাকতে হবে নির্বাচন পর্যন্ত। বিএনপি সংঘাত চায়। মাঠে সতর্ক থাকবো। সংঘাত যারা করতে আসবে, তাদের প্রতিহত করবো। তারা খালি মাঠ পেলে সংঘাত করবে। সেই প্রস্তুতি তারা নিচ্ছে।
শোকের কর্মসূচি পালনে চাঁদাবাজি নয়
আসন্ন আগস্টে শোকের কর্মসূচি পালনে আর্থিক সংকট পড়লেও কোনও ধরনের চাঁদাবাজি করা যাবে না। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সভা থেকে শোকাবহ আগস্টের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকে একই ধরনের কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেন। কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদেরও সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেন তিনি।
এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের মাথায় রাখতে হবে এই মাসের যে আলাদা একটা মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য আছে। সব কর্মসূচি এই ভাবগাম্ভীর্য ও চেতনার সঙ্গে সংগতি রেখে পালন করবো।
তিনি আরও বলেন, শোকের মাসে সাংগঠনিকভাবে কর্মসূচি পালন করতে গেলে কারও যদি সমস্যা হয়, বিশেষ করে টাকাপয়সার দরকার হয়; কিছু প্রয়োজন পড়ে, দলের কাছে চাইবেন। কিন্তু কোনও প্রকার চাঁদাবাজি করা যাবে না। চাঁদাবাজি থেকে স্ট্রিক্টলি দূরে থাকতে হবে।
সভায় অন্যদের মধ্যে আওয়ামী সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদের উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, কর্নেল (অব.) মো. ফারুক খান, ডা. মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দিন; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম; সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, বি এম মোজাম্মেল হক, আহমদ হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল; দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।