বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালে নানান ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতারা অভিযোগ করেছেন, দলটি আবার অনির্বাচিত সরকার এনে দেশকে পেছনে ঠেলার অপচেষ্টা করছে। সেই অপচেষ্টা নস্যাৎ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এক স্মরণসভায় এসব বলেন জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র এবং সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বলেন, নির্বাচন দিয়ে জিয়াউর রহমানও কোনও দিন ক্ষমতায় আসে নাই। তোমরাও (বিএনপি) আসতে পারবা না। তার জন্যই নির্বাচন নিয়ে নানান রকম ষড়যন্ত্র। অনির্বাচিত সরকার দিয়ে এ দেশকে আবার পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা, সেটা হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে সংবিধানকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে খেলা করা চলতে দেওয়া যায় না। আজ শুধু দলীয় ঐক্য নয়, জনগণের ঐক্য হচ্ছে মূল ঐক্য।
আমু বলেন, আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার, সংবিধানের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। সংবিধানের ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সবার প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান। সবাই যাতে নির্বাচন অংশগ্রহণ করে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি সুযোগ পেলেই রাজাকারের পক্ষে কথা বলে। জামায়াতের পক্ষে, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কথা বলে ও সমর্থন করে। আজ ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে শোকের মাসের আলোচনা সভা করছি।
তিনি বলেন, বিএনপি ১৫ আগস্টের হত্যার নিন্দা জানিয়ে একটাও বিবৃতি দেয়নি। তারা এই শোকের মাসে একটা সভাও করবে না। আসলে তারা খুনিদের সমর্থক। তাই বিএনপির ক্ষমতা মানে খুনি, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতা। বিএনপির ক্ষমতা মানে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের দিকে ঠেলে দেওয়ার ক্ষমতা। তাদের ক্ষমতা মানে হত্যা ক্যু’র রাজনীতির ক্ষমতা।
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ১৯৭১ সালে বিশ্ব এককেন্দ্রিক ছিল। কিন্তু আজ বিশ্ব এককেন্দ্রিক নয়। এখন বিশ্ব বহুকেন্দ্রিক। কাজেই আমাদেরও অনেক বন্ধু আছে। আন্তর্জাতিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাও আমাদের বন্ধু আছে। আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সমন্বয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেকোনও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবোই।
সংবিধান মেনে নির্বাচন হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও কামরুল ইসলাম বলেন, এর ব্যত্যয় হওয়ার সুযোগ নেই। আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব অপশক্তিকে প্রতিহত করি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করি।
গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাতীয় পার্টি-জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য কামরুল আহসান প্রমুখ।