পঁচাত্তরের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটনের স্বপ্ন দেখলে হাত ভেঙে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করার জঘন্য অপরাধে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিরা নেতৃত্ব দিয়েছিল। এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করার যদি ন্যূনতম কোনও স্বপ্ন দেখা হয়, তাহলে সে চোখ উপড়ে ফেলা হবে, সেই হাত ভেঙে দেওয়া হবে, সেই হাত কেটে ফেলা হবে।
শুক্রবার (১৮ আগস্ট) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর প্রেসক্লাব আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরূপ বকশী বাচ্চুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলতাফুজ্জামান মিতা, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল, দিনাজপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদ সরকার, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি রেজা হুমায়ূন ফারুক চৌধুরী এবং সিভিল সার্জন বোরহানুল হক চৌধুরী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমাদের সংবিধান পাল্টে ফেলতে চেয়েছিলেন, পারেননি। সব রাজনৈতিক দলের হাত-পা তখন বাঁধা ছিল। সামরিক আইনের মধ্যেও তিনি তা করতে পারেননি। খন্দকার মোশতাক ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান করার স্বপ্ন দেখেছিল, তা পারেনি। জিয়াউর রহমান যা পারেননি, তার সন্তানরা আজ বলছে সংবিধান পাল্টে ফেলবে। কত বড় সাহস!
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধারা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষ কি মরে গেছে? এখনও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অস্ত্র গর্জে ওঠে। কাজেই এ ধরনের দুঃস্বপ্ন দেখার চিন্তাভাবনা বাদ দিতে হবে। এ দেশে থাকতে হলে ঘোষণাপত্র মানতে হবে, স্বাধীনতার ঘোষণা মানতে হবে। তারপর রাজনীতি করার সুযোগ আছে। এর ব্যত্যয় হলে কোনও সুযোগ নেই।
বিএনপির সমালোচনা করে খালিদ মাহমুদ বলেন, যারা সামরিক আইন জারি করে দেশ চালিয়েছে, ‘হ্যাঁ-না’ ভোট দিয়ে বাংলাদেশের ভোটাধিকার হরণ করেছে, তারা এখন আমাদের গণতন্ত্রের কথা বলে। যারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন করেছে, চাকরি দিয়েছে, তারা এখন বলে দেশে সুশাসন চাই, আইনের শাসন চাই। যারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে, তারা এখন বলে রাজনীতি করার পরিবেশ নেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের যে উন্নয়ন, তা পৃথিবীর দেশে দেশে স্বীকৃতি মিলেছে। শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের নেত্রী নন, তিনি পৃথিবীতে অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হয়েছেন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের নেতা পৃথিবীর রাজনীতির নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতায় চলে গেছেন। বিশ্ব নেতৃত্ব তাকে সেভাবেই বলেই আজ বাংলাদেশকে নিয়ে এত বেশি চিন্তাভাবনা, এত বেশি মাথাব্যথা।
বাংলাদেশের মানুষ এ ভূখণ্ডে আর কোনও রক্তপাত চায় না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ দেশ ভূমিহীনদের আশ্রয়কেন্দ্র হবে, সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পাবে, শিক্ষা পাবে, খাদ্যনিরাপত্তা থাকবে, উন্নত ও স্মার্ট দেশ হবে। আমরা সেটি নিশ্চিত করেই স্বাধীনতার ঘোষণা, স্বাধীনতার ইশতেহার ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন করবো।