‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকায় ড. ইউনূসের সাক্ষাৎকার নিয়ে যা বললেন ওবায়দুল কাদের

ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকার নিয়ে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে একহাত নিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আজকে ইউনূস কত নির্লজ্জ, তিনি ভারতকে অনুরোধ করেছেন শেখ হাসিনাকে থামাতে। শেখ হাসিনা আক্রান্ত, আক্রমণকারী নয়। তাকে থামাবে কেন? আক্রমণকারীদের থামান। যাদের সঙ্গে আপনি আছেন। বিবৃতি দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপের জন্য বিদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান ড. ইউনূস। তিনি সাক্ষাৎকারে নতুন নির্বাচন দাবি করেছেন।’

রবিবার (২৮ জুলাই) তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

সাম্প্রতিক সহিংসতা নিয়ে বিদেশিদের দেওয়া বিবৃতি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিদেশ থেকে অনেকেই বিবৃতি দিচ্ছেন। অনেক সংস্থা, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও আছেন। কারা সমন্বয় করছেন আমরা জানি। তাদের বলবো, কারও প্ররোচনায় বিবৃতি না দিয়ে এখানে এসে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়, বিআরটি’র ধ্বংসলীলা দেখুন। বিআরটিসির ৪৪টি গাড়ি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, তা দেখুন। সাংবাদিক বন্ধুরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। বিবৃতি যুদ্ধ চলছে দেশে-বিদেশে। যেখানে ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলব ড. ইউনূসও যোগ দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই—আমরা আক্রান্ত, আক্রমণকারী নই। এখন বিবৃতি আসছে আক্রান্তদের বিরুদ্ধে। আক্রমণকারী আমরা না।’

ড. ইউনূস সরকারবিরোধী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বলে দাবি করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অতীতে যিনি রাজনৈতিক দল খুলে ওয়ান-ইলেভেনে সাড়া পাননি, যার বিরুদ্ধে মামলা চলমান। যিনি পদ্মা সেতু নির্মাণে বিরোধিতা করেছেন। তিনি আবার সক্রিয়। আগে গোপনে করেছেন। এবার তিনিও এসেছেন। বাইরে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। আমাদের বিবেক আমাদের চালায়। কোনও বিদেশি শক্তি নয়।’

প্রধানমন্ত্রীকে থামাতে ভারতের প্রতি অনুরোধ জানানো আপত্তিকর উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই দেশ স্বাধীন দেশ। স্বাধীন সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বুঝানো! কী বুঝাতে তিনি ভারতকে বলেছেন। খোলাসা করে ইউনূস সাহেব বলবেন কি?’

কোটা আন্দোলন, অগ্নিসন্ত্রাস, সাম্প্রতিক সহিংসতার সঙ্গে এই বিবৃতির সংযোগ আছে কিনা, তা ভেবে দেখা দরকার বলেও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ড. ইউনূস দেশের সংস্কৃতি ও স্বাধীনতা লালন করেন না বলে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘তিনি আমাদের সঙ্গে নেই। আমরা তার সঙ্গে কেমন করে থাকবো। জাতির কোনও সংকট, সম্ভাবনায় তার ভূমিকা দেশের জনগণ দেখে না।’

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।