কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নাগরিক সমাজের মতপ্রকাশের সুযোগে তৃতীয় পক্ষ যাতে উসকানি দিতে না পারে, সেই জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সবার ধৈর্য ধারণ সমীচীন।
শুক্রবার (২ আগস্ট) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আমরা দেখছি নাগরিক সমাজের অনেকে চলমান সংকটে তাদের নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেছেন। আমরা ব্যক্তিগত মতের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু একটা রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি সবার বিবেচনায় থাকা উচিত। তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় কোনও স্বার্থান্বেষী মহল যেন উসকানি সৃষ্টি করতে না পারে সেই বিষয়ে সবার দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।
আমরা সবাইকে দালাল বলি না
‘বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ’ ও ‘বিক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজ’ নামে যারা এখন মাঠে নেমেছে, এ ধ্বংসযজ্ঞের পক্ষে কথা বলেছে, মানববন্ধন করছে, যাদের একসময় আপনারা বিএনপির দালাল বলতেন, এখন এ ব্যাপারে কী বক্তব্য আপনার— সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা সবাইকে দালাল বলি না। ঢালাওভাবে কাউকে দালাল বলি না, বলা উচিতও না। আমরা ব্যক্তিগতভাবে কারও আচরণ যদি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সরকারি কর্মকাণ্ড, দেশের অর্জন সংশ্লিষ্ট এসব ব্যাপারে যারা বিরোধিতা করে, তাদের সম্পর্কে ভিন্নমত থাকতে পারে।
নাগরিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে সরকার আলাপ-আলোচনা করবে কিনা এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেশাজীবী, সংস্কৃতিসেবী হতে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছেন। পর্যায়ক্রমে সবার সঙ্গে মতবিনিময় হবে।
‘সরকার বনাম শিক্ষার্থীর’ গেইম
শিক্ষার্থীদের দাবি মানার পরেও একটি মহল ‘সরকার বনাম শিক্ষার্থীর’ গেইম খেলে ফায়দা লোটার অপচেষ্টা করছে বলে দাবি করেন কাদের। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি যেহেতু পূরণ হয়েছে, তাই আমরা বিশ্বাস করি তারা শ্রেণিকক্ষে, পরীক্ষার হলে ফিরে যাবে। তারা কারও অশুভ রাজনীতির ঢাল হিসেবে ব্যবহার হোক, এটা জাতি চায় না। পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অযথা হয়রানি এবং আটক না করতে আইন প্রয়োগকারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনও শিক্ষার্থী যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে দায়িত্বশীল সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নেয় সেই জন্য সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আটককৃত পরীক্ষার্থীদের মুক্ত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে।
জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করায় ধন্যবাদ
জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এর আগেও বাংলাদেশে কয়েকবার জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়েছিল। এবারও জামায়াতের নিষিদ্ধের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ের জোরালো দাবি উঠেছিল। সেই গণদাবির প্রতি আস্থাশীল হয়ে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিষিদ্ধ জামায়াতের রাজনীতির বৈধতা দেন। তারা সবসময় জামায়াতের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে চলেছে। তাই বিএনপির পক্ষে দলটিকে পরিত্যাগ করা অসম্ভব। যে কারণে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধে দেশের মানুষ সাধুবাদ জানালেও মির্জা ফখরুল আলমগীর এ সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক বলবে স্বাভাবিক।
এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জামায়াত-শিবির যে কারণে নিষিদ্ধ হয়েছে, সেই সন্ত্রাসের সঙ্গে কারও যোগসাজশ বা এই সন্ত্রাসী চেতনাকে যারা বহন করবে, তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের মনোভাব ও আচরণ এরকম হবে। সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী সংগঠনকে সন্ত্রাসী হিসেবে দেখবো, তারা যারাই হোক।
নাতি কোটা
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি কোটার বিষয়ে আদালতে যাবেন, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কাদের বলেন, আমি ঠিক জানি না তিনি কী বলেছেন। যদি বলে থাকেন এটা তার ব্যক্তিগত মত। এটার সঙ্গে আমাদের সরকার বা দলের কোনও সিদ্ধান্ত নেই।
পাগলের প্রলাপ!
ড. ইউনূসকে সরকারপ্রধান করে একটি মন্ত্রিসভার তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। বিষয়টি আওয়ামী লীগ কীভাবে দেখছে- জানতে চাইলে জবাবে কাদের বলেন, পাগলের প্রলাপ!
শিক্ষার্থীদের ৯ দফায় আপনার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন বিষয় আছে, দাবি নিয়ে কী ভাবছেন—এমন প্রশ্ন করা হলে জবাবে বিচারবিভাগীয় তদন্তের কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন কে অপরাধী, কে অপরাধী নয়, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। সেটা তদন্ত কমিশনের কার্যপরিধির আওতায় পড়ে। কাজেই বিষয়টি সেখানেই থাকবে। সেখানেই সিদ্ধান্ত।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য তারানা হালিম, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।