শনিবার দুপুরে (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘মানবাধিকার প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, যুক্তরাজ্য শাখা।
বিএনপি'র এই নেতা আরও বলেন, 'ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা নেই নিশ্চিত জেনে তারা জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বাইরে রেখে আবারও ক্ষমতা দখল করতে চায়।'
'নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত' বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনায় সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, 'আপনারা প্রস্তুত, কিন্তু নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের মানুষ কি প্রস্তুত? বরং বাংলাদেশে যখন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থায় আগামী নির্বাচনের পরিবেশ বা ক্ষেত্র তৈরি হবে তখন দেশের মানুষ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে। এর বাইরে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি কিংবা ষড়যন্ত্র হলে এর দায়ভার ষড়যন্ত্রকারী ও নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে।'
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, 'সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে রোহিঙ্গা ফেরত পাঠাতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি করা হয়েছে। অথচ এখন শুনতে পাচ্ছি রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর একটি জায়গায় বসবাসের স্থান দেওয়া হচ্ছে। এর মানে কী? যদি রোহিঙ্গাদের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে হয় তাহলে তো বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হচ্ছে ধোকাবাজি চুক্তি। অর্থাৎ সরকার মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা ইস্যুতে চুক্তির মাধ্যমে দেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।'
তিনি বলেন, 'বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের কর্মসূচির একমাত্র অস্ত্র বিচার বিভাগ, যা বাংলাদেশের আইনের শাসনের রক্ষক, আর এর অভিভাবক হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি। যাকে সরকার প্রথমে ছুটি, দেশত্যাগ ও সর্বশেষ পদত্যাগে বাধ্য করেছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারের সঙ্গে জড়িত সবাইকে একটা ম্যাসেজ দেওয়া।'
খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ও নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। ইকরামুল হক মজুমদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. শাহিদা রফিক, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ।