বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। জিয়া পরিষদের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এবং খালেদা জিয়ার সাজা এবং কারাবন্দিত্বের প্রতিবাদে ‘অবরুদ্ধ গণতন্ত্র এবং বিপন্ন আইনের শাসন: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘এই সরকার আবারও ক্ষমতা দখল করার জন্যই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আসলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, জীবনের নিরাপত্তা সবকিছুই একাকার। আজ দেশের মালিকানা ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য খালেদা জিয়ার মুক্ত করতেই হবে।’
তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আজ দেশে আওয়ামী লীগের নিরাপত্তা এমন জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে, তাদের উন্নয়নের মিছিল করতে হচ্ছে। অথচ দেশে সড়ক-মহাসড়কের বেহাল দশা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও চালের মূল্য বেড়েছে কয়েকগুণ। মানুষের জীবনমান কমেছে। কর্মসংস্থান নেই। ব্যাংকের টাকা লুট হয়ে যায়, কোনও বিচার নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস করে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে। এই সরকার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। এটা কী উন্নয়ন? কীসের উন্নয়ন হয়েছে?’
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একসঙ্গে চলতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা নেই। তাহলে কীসের উন্নয়নের কথা বলছে? ৯ বছরে এই সরকার কী উন্নয়ন করলো? স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারও ৯ বছরে উন্নয়নের কথা বলেছিল। কিন্তু তার উন্নয়ন মানুষ গ্রহণ করেনি।’
তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘অনির্বাচিত সরকার অবৈধ সংসদ চালাচ্ছে, অন্যায়ভাবে দেশ চালাচ্ছে। আগামী দিনে বিএনপির সব গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দেশের পটপরিবর্তন করতে হবে, যাতে দেশের মানুষ তাদের মালিকানা ফিরে পায়। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে দেশ চালাতে না পারে। এক্ষেত্রে জিয়া পরিষদকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।’
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম হাসান তালুকদার। জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কবীর মুরাদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহিল মাসুদ, জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ডা. আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, ড. জে কিউ মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।