মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।
মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সামনে তিনটি মূল এজেন্ডা। প্রথমটি হলো—খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এজন্য শুধু আইনি লড়াই নয়, জনমত তৈরি করতে হবে। আমাদের আন্দোলন করতে হবে। তাহলে তিনি মুক্ত হয়ে আসবেন।’
দ্বিতীয় এজেন্ডা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এজন্য যে আন্দোলন চলছে, এটা চলবে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তৃতীয় এজেন্ডা হলো, গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে আমাদের। এজন্য আমাদের নির্বাচনি প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাই বিএনপিকে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। কারণ নির্বাচন রাজনৈতিক ব্যাপার, যেকোনও সময় হতে পারে।’ তারা বলেন, ‘আন্দোলনের কোনও বিকল্প নেই। আন্দোলনের মাধ্যমে এ ভয়ঙ্কর ও দানব সরকারকে হটাতে হবে।’
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘যেখানে আওয়ামী লীগ নেতারা ব্যর্থ হয়েছেন, সেখানেই জিয়াউর রহমান সফল হয়েছেন। সেজন্য জিয়াউর রহমানকে ভয় পান তারা। শুধু জিয়াউর রহমান নন, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপির নেতাকর্মীকেও তারা ভয় পান। এ কারণে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছে সরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আবারও ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে চায়। তাদের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় আনুষ্ঠিকতা মাত্র। তারা নীলনকশা করছে নির্বাচন কমিশন তাদের বিজয়ী ঘোষণা করবে। কিন্তু খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বাদ দিয়ে ৫ জানুয়ারি মার্কা কোনও নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। এদেশে মানুষ তা প্রতিহত করবে।’ প্রধানমন্ত্রী জোর করে মানুষকে নৌকায় ভোট দেওয়ার ওয়াদা করাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম প্রমুখ।