কালক্ষেপণ না করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মঙ্গলবার (১২ জুন) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।
এ সময় সাংবাদিকদের খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘প্রয়োজনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ব্যয় বিএনপি বহন করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এই আবেদন নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাওয়া হয়েছে।’
মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আইজি প্রিজন গণমাধ্যমে বলেছেন, কারাবিধি অনুযায়ী প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। এমন কোনও সিদ্ধান্ত না থাকায় খালেদা জিয়াকে পিজি হাসপাতালেই নিতে হবে। তাকে প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসা ব্যয় কে বহন করবে সে সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে। তার এই বক্তব্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত এবং আমাদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ইউনাইটেড হাসপাতালে তাকে ভর্তির ব্যাপারে সরকারের অনীহার কারণ বোঝা গেলো।’
খন্দকার মোশাররফ আরও বলেন, ‘গতকাল থেকে খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউতে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এর আগে সেখানে তাকে নেওয়া হলে সেখানকার ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ এবং চিকিৎসা সেবার বিষয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। আমরা দেশনেত্রীর উপযুক্ত চিকিৎসা চাই বলেই গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকারকে জানাতে চাই, প্রয়োজনে দেশনেত্রীর চিকিৎসার সব ব্যয় বিএনপি বহন করবে। কাজেই কালবিলম্ব না করে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হোক।’
তথাকথিত ১/১১-এর সরকারের সময়েও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারি অনুমোদন ও অর্থ সংস্থানের বিষয়ে এতদিনেও সিদ্ধান্ত না হওয়া রহস্যজনক এবং নিন্দনীয়।’
খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু তাই নয়, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতির কথাও গোপন রাখার অপচেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্পষ্ট বোঝা যায়, সরকার তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ খালেদা জিয়ার জীবন বিনা চিকিৎসায় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’