‘ভ্যানগার্ডরা’ কোথায়, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আগে ছাত্র এবং শ্রমিকরা যেকোনও আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতো। আমরা যেটাকে বলি ভ্যানগার্ড, এখন কোথায়?’

সোমবার (৭ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখনও অনেকে মনে করেন আমানুল্লাহ আমান হুকুম দিলেই সবাই চলে আসবে। আসছে না, কেন আসবে? কারণ, যুগ সময় সব পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগে ছাত্র এবং শ্রমিকরা যেকোনও আন্দোলনের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতো। আমরা যেটাকে বলি ভ্যানগার্ড, এখন কোথায়? এখন অপেক্ষা করতে থাকে বিএনপি কবে মিটিং করবে। তাতে হবে না, বিএনপিকে মিটিং করতে বাধ্য করবে তারা। এটাই বরাবর হয়েছে। তরুণরা ভাষা আন্দোলনের সময় সবাইকে টেনে নিয়ে এসেছে। আজকেও ছাত্র ও শ্রমিকদের বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলে আমরা সবাই যেটা চাচ্ছি যে গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে উত্থান হবে; তার মধ্য দিয়ে সরকার পরাজিত হবে। তাতে অবশ্যই হবে। তাদের তৈরি করতে হবে। কারা করবে? তরুণ প্রজন্মকেই করতে হবে। আমি, আমান, আমাদের অনেক বয়স হয়ে গেছে। তার মধ্যে যদি রাস্তায় এসে দাঁড়াই, যেদিন বিএনপি কর্মী রাজকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল সেদিন কয়জন এসে দাঁড়িয়েছিলেন রাস্তায়? এগুলো ফ্যাক্ট, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা তো আশা করছি আমাদের শক্তি জাগাবে তরুণরা।’

তিনি আরও বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার নয়। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে, বেইমানি করে জোর করে আজকে ক্ষমতা দখল করে আছে। পুলিশ, র‍্যাব, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, এমনকি মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে আমরা তাদের ক্ষমতায় যেতে দেখেছি। ৯০-এর পৃথিবী আর আজকের ২০২১-এ বহু পরিবর্তন হয়েছে। ভারতেই দেখুন, যেখানে আগে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হতো এখন সেখানেই ধর্মান্ধতার খেলা চলছে। পশ্চিমা বিশ্বে এখনও ইউরোপ কিছুটা ঠিক আছে। আমেরিকায় কোনও রকমে আছে। ট্রাম্প যদি আবার নির্বাচিত হতো ওখানে গণতন্ত্রের যে কী দশা হতো এটা বলা মুশকিল। প্রবণতা হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী সরকারের। গোটা পৃথিবীর প্রবণতা হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী সরকারের মতো। প্রচুর গবেষণা হচ্ছে, বই লেখা হচ্ছে, গণতন্ত্রের মৃত্যু হচ্ছে কিনা তার ওপর।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলেন ২০১৮ সালের নির্বাচনে গিয়েছিলাম, অনেকেই আমাদের বলে আমরা ভুল করেছিলাম। আমি এখনও মনে করি আমরা ভুল করিনি। কারণ, আমরা চেষ্টা করেছিলাম সমস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ওই নির্বাচনের মাধ্যমেই তাদের পরাজিত করতে। আমরা পারিনি। আজকে সেই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমাদের আন্দোলন সংগ্রামের প্রাণশক্তি হচ্ছে আমাদের ম্যাডাম। খালেদা জিয়া হেমিলনের সেই বংশীবাদক, যার বাঁশি না বাজলে মানুষ বের হয়ে আসে না। এটাকে আমরা অস্বীকার করতে পারবো না। আজকে অত্যন্ত পরিকল্পনার সঙ্গে ম্যাডামকে আটকে রেখেছে। আমাদের তাকে মুক্ত করতে হবে।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা হারুন আল রশিদ, ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সালাম প্রমুখ।