নেতাকর্মীদের স্লোগানে আবারও ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিগত সময়ে ছাত্র-যুবদলের তরুণ নেতাকর্মীদের ধমকে চুপ করিয়ে দিলেও আজ শনিবার (৬ নভেম্বর) অনেকটাই বিরক্ত হয়েছেন তিনি। শনিবার (৫ নভেম্বর) ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের নিচতলার মিলনায়তনে প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের স্মরণ সভায় এ ঘটনা ঘটে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতির বক্তব্য দেওয়ার সময়েও একই অবস্থা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ডায়াস থেকে তিনি নিজের আসনে বসে পড়েন।
হট্টগোল দেখে মহাসচিব বলেন, ‘সমস্যা হচ্ছে আমরা কেন এরকম সভায় আসি, সেটা বোধহয় আমরা নিজেরাও জানি না। এটা একটা স্মরণসভা। এমন একজন নেতা যিনি আমাদের অতীতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, পথ দেখিয়েছেন। সারাটা জীবন সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন। তার স্মরণসভায় এসে আমাদের এই সমস্ত সমস্যা সমাধান করতে হয়।’
‘কীভাবে কথা বলবেন। দেখুন এখানে ইয়াং ছেলেরা আছে, তরুণরা আছে। হয় তারা ছাত্র দল, না হয় যুব দল, না হয় স্বেচ্ছাসেবক দল অথবা মহানগরের নতুন কমিটি ছেলেরা। তারা তো এখানে কথা শুনতেই আসেনি। অনেকে বহুবার বলেছেন এখানে। কিন্তু আমরা কেউ কর্ণপাত করছি না। আমাদের এই কান দিয়ে ঢুকে ওই কান দিয়ে বেরিয়ে যায়।’
ডানদিকে হট্টগোলকারীদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘ওইখানকার সমস্যাটা কী? হোয়াট ইজ প্রবলেম দেয়ার। এভাবে আমি কথা বলবো না।’
এই সময়ে দলের সঞ্চালক শামীমুর রহমান মাইকে এসে বলেন, ‘আপনারা চুপ করেন। কেউ কথা বলবেন না। প্লিজ মহাসচিব এখন বক্তব্য রাখবেন। সবাই বসে পড়েন। শান্ত হয়ে বসেন। আমাদের সংগ্রামী মহাসচিব স্যার কথা বলছেন।’
পরে সকলে পিনপতন নীরব হওয়ার পর আবার ডায়াসে আসেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আবারও বলছি আপনারা মিটিং শুনতে আসেন, উনাকে স্মরণ করতে চান তাহলে দয়া করে শান্ত হয়ে থাকেন। তা না হলে আমাদের এখানে থাকার দরকার নাই, কোনও প্রয়োজন নাই।’
‘আমি বলতে চাই, এভাবে কিছু হয় না। বিশেষ করে আমাদের তরুণ-যুবক, ছাত্র-যুব দল তাদের প্রতি আহবান জানাতে চাই- আসুন আপনারা নিজেরা কিছু জানুন এবং নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। তা না হলে কোনও কিছু অর্জন করা সম্ভব হবে না।’
অনুষ্ঠান শেষে নেতাকর্মীরা একসঙ্গে বের হতে গিয়ে ইনস্টিটিউটের মূল গেটের একটি গ্লাস ভেঙে যায়।
বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল বারী হেলাল, শামীমুর রহমান শামীম, আমিরুজ্জামান শিমুলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রয়াত তরিকুল ইসলামের ছোট ছেলে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ যশোর-খুলনার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।