রাজধানীর সবুজবাগ থানা ছাত্রদলের নিখোঁজ সভাপতি মাহবুব হাসান সুজনের বাবা আব্দুল জলিল খানের বাসাবোর বাড়িতে গিয়ে সবুজবাগ থানার এসআই রবীন্দ্রনাথ সরকার রবীনের নেতৃত্বে ৮/১০ জনের ইউনিফর্ম পরা পুলিশের একটি টিম জোর করে একটি কাগজে স্বাক্ষর করাতে চেয়েছে—এমন অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘সেখানে সুজনের পিতাকে দিয়ে পুলিশের লেখা একটি বক্তব্যে স্বাক্ষর দিতে চাপ প্রয়োগ করে, যেখানে লেখা ছিলো সুজন স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে চলে গিয়ে নিখোঁজ হয়।’
শনিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ অভিযোগ করেন। তিনি এও অভিযোগ করেন, ছাত্রদলনেতা সুজনের পিতা ফরমায়েশি বক্তব্যে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করলে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ফোনের মাধ্যমে অবগত হলে তার হস্তক্ষেপে পুলিশ ফিরে যায়।
বিএনপির এই অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার ফারুক হোসেন বলেন, ‘ডিএমপিতে যে কোনো অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান বা তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। অনুসন্ধান বা তদন্ত চলাকালে অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করা তদন্ত বা অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু পুলিশের কার্যক্রমকে হয়রানি হিসেবে উল্লেখ করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচার করা এবং এ সম্পর্কে একতরফা বিবৃতি প্রদান করা পুলিশের তদন্ত কাজে অসহযোগিতার নামান্তর ।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিনেতা রিজভী বলেন, ‘একই প্রক্রিয়ায় পুলিশ এবং আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গুমের শিকার সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অন্য পরিবারের সদস্যদের নিকট থেকেও একই প্রকার ফরমায়েশি বক্তব্য আদায়ের চেষ্টা করেছে। গুমের সাক্ষ্য এবং আলামত ধ্বংসের এ ধরনের বেআইনি পদক্ষেপ অবৈধ সরকারের মানবতাবিরোধী অপরাধের সম্পৃক্ততা শুধু প্রতিষ্ঠিতই করছে না, এই পদক্ষেপগুলো এই অবৈধ সরকারকে নিত্য নতুন অপরাধেও সম্পৃক্ত করছে।’