‘জিয়াকে স্বজনপ্রীতি কখনও স্পর্শ করতে পারেনি’  

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমানের মতো সৎ ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দ্বিতীয়বার পাওয়া যাবে না। ৬ বছর রাষ্ট্র শাসন করার পর দেখা গেলো, তার জমি নেই, ব্যাংকে কোনও টাকা পয়সা নেই। স্বজনপ্রীতি তাকে কখনও স্পর্শ করতে পারেনি।

শুক্রবার (১১ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের রচিত ৭টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

হাজিফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যুদ্ধের সময় যখন জিয়াউর রহমানকে দেখতাম, তখন চিন্তা হয়নি যে নিদ্রামগ্ন এই ব্যক্তি চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতি পদে অভিষিক্ত হবেন। বাংলাদেশের জনগণ তাকে সেই অবস্থায় নিয়েছেন। তিনি এ দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান, যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা করলেন, তার খেতাব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এই সরকার। কী অদ্ভুত হীনম্মন্যতাবোধ।’

আওয়ামী লীগ সরকার অহেতুক মামলা দেয়, মন্তব্য করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘এহসানুল হক মিলন নকল প্রতিরোধে এমন যুগান্তকারী ভূমিকা রাখলেন, কিন্তু তিনি নাকি সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জনৈক মহিলার ভ্যানিটিব্যাগ নিয়ে দৌড় দিয়েছেন! এরা মামলাও দিতে পারে না। আমাদের সবার নামেই মামলা আছে। সুতরাং, অদ্ভুত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ, কবি যেমনটা বলেছে, এরকম একটা দেশে আমরা বসবাস করছি।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি দেড় বছর তার (জিয়াউর রহমান) একান্ত সচিব ছিলাম। তার সর্বোচ্চ স্বপ্ন ছিল তিনি সেনাপ্রধান হবেন। তার কোনও রাজনৈতিক অভিলাষ ছিল না। কিন্তু দেশের প্রয়োজনে জনগণই তাকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়েছে। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া’ নামে এই বইতে সব উল্লেখ আছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান জীবিত থাকা অবস্থায় কোনোদিন কাউকে ছোট করে কথা বলেননি। তিনি শেখ মজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু সম্বোধন করে কথা বলেছেন। তাঁর প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন ও তাঁর পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। তারপরও তার রেহাই নাই। কেন তিনি সেই ঘোষণা দিলেন, যেই ঘোষণাটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী দিতে পারেনি, সেটি দিয়ে তিনি শাসকগোষ্ঠীর বিরাগভাজন হয়েছেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন প্রমুখ।