বিএনপিকে দুর্বল করা কখনও সম্ভব না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিগত চৌদ্দ বছর যাবৎ এই বিএনপির ওপর নির্যাতন করা হয়েছে, আমাদের নেত্রীকে একটা বানোয়াট মামলায় ফরমায়েশি রায়ে কারাবন্দী করা হয়েছে, তিনি অসুস্থ কিন্তু চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়া হয় না। কতটা অমানবিক এই সরকার!'
বুধবার (২৩ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি আয়োজিত 'মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা ও চিত্র প্রদর্শনী' অনুষ্ঠান উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মোশাররফ বলেন, 'যদি সত্য ঘটনাগুলো সামনে আসে তাহলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থাকে না। আজকে যদি মুক্তিযুদ্ধের সত্য ঘটনা নিয়ে বইয়ে লেখা হয়, তাহলে তারা জানে তারা যে মিথ্যাচার করছে, তা সকল ক্ষেত্রে ধরা পড়ে যাবে। কিন্তু এটা সত্য—ইতিহাস ইতিহাসই।'
তিনি বলেন, 'আমাদের একটি মাত্র লক্ষ্য—এই সরকারের হাত থেকে দেশের জনগণকে রক্ষা করতে হবে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে, আমাদের নেত্রীকে পূর্ণ মুক্ত করতে হবে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।'
সরকারকে হঠাতে ইস্পাত কঠিন গণঐক্য সৃষ্টি করতে হবে জানিয়ে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, 'সকল গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে জনগণের মধ্যে ইস্পাত কঠিন গণঐক্য সৃষ্টি করে এই সরকারকে সরিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।'
আলোচনা সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'সব দেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, সবাই সব সময় তা সমুন্নত রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু বিশ্বের কোনও দেশে বাংলাদেশের মতো মুক্তিযুদ্ধকে বেচাবিক্রি করার কালচার নেই। আর এটা ক্ষমতাসীনরা যখন করে তখন সেটা ইতিহাস তো হই না, এটা প্রোপাগান্ডা হতে পারে।'
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, 'স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ জিয়ার অবদান, সম্মান অবিভাজ্য। এটাকে ভাগ করা যাবে না।'
বিএনপির ঢাকা উত্তরের আহবায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।