টিসিবির ন্যায্য মূল্যের কার্ড আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘খুব জোর গলায় বলা হচ্ছে, এক কোটি কার্ড দেওয়া হয়েছে গরিব মানুষের। আজ পত্রিকা খুললে দেখতে পারবেন, ঠাকুরগাঁয়ে আওয়ামী লীগের মহিলা লীগের সভানেত্রীকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। তার দোতালা বাড়ি আছে। আর তার পাশেই গরিব মানুষটি কোনও কার্ড পাননি। দেশের এখন এই অবস্থা।’
বুধবার (৩০ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিএফইউকে’র সাবেক সভাপতি ও কারা নির্যাতিত সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ মানুষ টিসিবির ট্রাকের পেছনে লাইন দিচ্ছে। কারণ নিত্যপ্রয়োজনী জিনিসপত্র কেনার জন্য যে অর্থ দরকার সেই অর্থ তাদের কাছে নেই। জিনিসপত্রের এত দাম বাড়ছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন একটা ভয়াবহ অবস্থা চলছে। এত খারাপ অবস্থা কখনও দেখিনি। এখানে কোনও রকমের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যূনতম স্বাধীনতা, একজনের সঙ্গে আরেকজনের সৌজন্য নিয়ে কথা বলা, সেটা পর্যন্ত চলে গেছে।’
সাংবাদিকদের ওপর অত্যাচার নতুন না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসলে যারা ক্ষমতায় থাকেন তারা সুযোগ পেলেই যারা সত্য কথা লেখেন তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের নির্যাতন করেন, তাদের কারাগারে নিক্ষেপ করেন।’
গণমাধ্যমকর্মী আইন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আইনটা কারা করবে? আইনটা সাংবাদিকরা করছে না, করছে পার্লামেন্টের সদস্যরা। যারা বিনা ভোটে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। তারা আইন তৈরি করবে আপনাদের জন্য, গণমাধ্যমের জন্যে। সেটা কী অবস্থায় দাঁড়াবে আমরা জানি।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপাত্ত সংরক্ষণ আইন নামে নতুন একটা বিল আসছে। ৩৪ পৃষ্টার একটা খসড়া দিয়েছে। কিছুদিন আগে দিল বিটিআরসি কন্ট্রোল করবে সোশ্যাল মিডিয়া। সোস্যাল মিডিয়াকে কী করে কন্ট্রোল করা যায় তারও একটা আইন আসছে। এখানে কথা বলার স্বাধীনতা পর্যন্ত নেই।’
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আমাদের এখন কাজ করতে হবে, তাদের সরাতে হবে। ন্যায় বিচার করতে বিচার বিভাগকে বাধ্য করতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আসুন সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করি।’
নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।