বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাড়িতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদও জানিয়েছেন। অবশ্য এ অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে শাহীন আহমেদ বলছেন, ‘আমি দুই দিন ধরে ঢাকার বাইরে, চট্টগ্রামে অবস্থান করছি।’
মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল সোমবার রাতে পৌনে ৮টায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় নজিরবিহীন ব্যর্থতা ঢাকতে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতেই বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের জানমাল, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর রক্তাক্ত হামলা চালানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার এখন নিজেদের পতন হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারছে বলেই দেশব্যাপী সিনিয়র নেতারাসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর সহিংস আক্রমণ ও হামলা শুরু করেছে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সত্য উচ্চারণে নির্ভীক বলেই তার কণ্ঠরোধ করতে তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা। তিনি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে দেশবাসী এখন গভীর শঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার মিশন নিয়ে কাজ করছে, আর সেই মিশনের অংশ হিসেবেই বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙ্চুর চালানো হয়েছে। রক্ত ঝরানো ছাড়া এই সরকারের আর কিছু করার নেই। ’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি গত দুদিন ধরে ঢাকার বাইরে, চট্টগ্রামে আছি। উনার মতো একজন (মির্জা ফখরুল) দায়িত্বশীল মানুষ যখন মিথ্যা বলেন, তাহলে রাষ্ট্রের বা আমাদের কিছু বলার থাকে না।’
তিনি বলেন, ‘কেরানীগঞ্জ রাজনৈতিকভাবে শান্ত একটি এলাকা, এখানে যদি কেউ মশাল জ্বেলে, গাড়িতে আগুন দেওয়ার প্র্যাকটিস করে, তাহলে তো আইনশৃঙ্খলাবাহিনী অ্যাকশন নেবে। পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও নেতাকর্মীরা পদক্ষেপ নেবে।’