বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে কুকুর-বিড়ালের মতো আচরণ করছে। যেখানে যাকে খুশি মারছে, বাড়িতে ঢুকে জিনিসপত্র লুটপাট করছে। বিরোধী দল যেন ঘরের বউ, যা খুশি তাই করছে। এর পরিণতি ভালো হবে না। বাংলাদেশ এর নজির আছে। বিদেশেও এর নজির আছে। যারা অত্যাচারী ফ্যাসিস্ট তাদের বিদায় পরিণতি অনেক ভয়াবহ হয়।’
সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি নেতা সেলিমা রহমান, বরকতউল্লাহ বুলু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শামা ওবায়েদ, তাবিথ আউয়ালসহ সারাদেশে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের উদ্যোগে এই মানববন্ধন আয়োজিত হয়।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলে। অথচ মোমবাতি জ্বালানো অনুষ্ঠান তারা সহ্য করতে পারে না। এত নিরীহ কর্মসূচি বাংলাদেশে বোধ হয় আর নাই। সেই মোমবাতিটাও তারা নিভিয়ে দিতে চায়।’
রক্তের হিসাব জনগণ আদায় করবে মন্তব্য করে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘কোনও আন্দোলন সংগ্রামের রক্ত বৃথা যায় না। কোনও শহীদের রক্ত কখনও বৃথা যায় না। আগামী দিনে এই রক্তের হিসাব বর্তমান সরকারের কাছ থেকে এদেশের জনগণ আদায় করে নেবে।’
তিনি বলেন, ‘অতি সত্ত্বর অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। যারা জোর করে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে তাদেরও বিচার হবে। এমনি এমনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসে নাই। আপনারা কলমের খোঁচায় তা বাতিল করে দেবেন আমরা এমনি মেনে নেবো তা হবে না। এই বাঙালি জাতি তা মেনে নেবে না।’
তিনি বলেন, ‘সামনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। তার জন্য এক সাগর রক্ত দেওয়া লাগলেও দেবো। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য যেমন এক সাগর রক্ত দিয়েছে এদেশের মানুষ, ঠিক তেমনি আবার এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হলে আরও রক্ত দেবো। তবুও ফ্যাসিবাদকে এদেশের জনগণ মেনে নেবে না।'
সরকারের কাছে একটাই প্রত্যাশা জানিয়ে দুদু বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি পদত্যাগ করেন। তত্ত্ববধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। সংসদ ভেঙে দেন। বিশৃঙ্খলার হাত থেকে দেশকে বাঁচান। তা না হলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তা এদেশের জনগণের জন্যে না সরকারের জন্যও ভালো কিছু বয়ে আনবে না।'
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাক্তার মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির সহ তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী প্রমুখ।