দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আগাম প্রস্তুতি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চ। রবিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে উভয় পক্ষের বৈঠকে ইসির আগাম প্রস্তুতির বিষয়টি উঠে আসে। আর সে কারণে নির্বাচনি দাবি আদায়ে রোজার পরই কার্যকর কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষের নেতারা। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান তারা।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, হঠাৎ করেই নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনি তৎপরতা নিয়ে আজকের বৈঠকে আলোচনা ছিল। নেতারা মনে করছেন, সরকারের পরামর্শে আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো যেহেতু ডিসেম্বর-জানুয়ারিকে সামনে রেখে কর্মসূচি প্রস্তুত করছে—সে কারণে বিরোধী দলগুলোকে অপ্রস্তুত রেখে নির্বাচন করতেই ইসির এই আগাম তৎপরতা।
উভয় পক্ষের নেতারা দাবি করেছেন, ঈদের পর থেকে শুরু করে আগামী অন্তত তিন মাসের মধ্যে আন্দোলনের ফলাফল আনার লক্ষ্য বিএনপি ও বিরোধী দলগুলোর।
বৈঠকের পর সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যুগপৎ আন্দোলন কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। একমত হয়েছি, এই সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন হতে দেবো না, জনগণ হতে দেবে না।’
‘আমরা আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার যে যৌথ ঘোষণা—সেটা আসবে এবং অচিরেই আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারবো’, বলেন হাসনাত।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বাবুল ও গণ-অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান। বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য, দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।