বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার এখন আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছে। একদিকে তারা বাজারে বাজারে আগুন দিচ্ছে, অপরদিকে জনগণের স্বপ্ন, ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাগুলোকে আগুনে পুড়ে দিচ্ছে। আজ আমরা এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি, এ থেকে বাঁচার একটি মাত্রই পথ—ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। তিনি বলেন, ‘জনগণকে সম্পৃক্ত করে এই ভয়াবহ দানব সরকারকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
সোমবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যে আশা-আকাঙ্ক্ষা, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য স্বাধীনতার যুদ্ধ হয়েছিল, আজ ৫২ বছর পরেও সেই গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য আমাদের সংগ্রাম করতে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার যুদ্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল, গণতন্ত্র তাদের হাতেই আজ ভূ-লুণ্ঠিত। তারাই আজ রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করছে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলবো। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি নির্বাচন, যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারবে, যে নির্বাচনে মানুষ তার প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে পারবে, সে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবো।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ও গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর হোসেনের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইফতার আয়োজনে গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষনেতারা অংশ নেন। তারা হলেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণ-অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া, সদস্য সচিব নুরুল হক নুর, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু।
ইফতার মাহফিলে বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, দলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন অংশ নেন।
এ ছাড়া অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (বীর প্রতীক), গণফোরাম (একাংশ) সভাপতি মোস্তফা মহসীন মন্টু, বিকল্পধারার (একাংশ) নেতা অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারীসহ আরও অনেকে গণতন্ত্র মঞ্চের ইফতারে শরিক হন।