বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা আজকে এমন একটি সময়ে এসে উপস্থিত হয়েছি, যে সময়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার সুযোগ সরকার কাউকে দিচ্ছে না। কারণ, এই সরকার ইতোমধ্যে নিজের মাথাটি বিক্রি করে দিয়েছে।
রবিবার (২১ মার্চ) জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়েজিত ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে শফিউল আলম প্রধানের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আমরা এমন একটি সময়ে এসে উপস্থিত হয়েছি, যে সময়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার সুযোগ সরকার কাউকে দিচ্ছে না। কারণ, এই সরকার ইতোমধ্যে নিজের মাথাটি বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা একটি ক্রান্তিকালে এসে পৌঁছেছি। এই সময়ে নির্ধারিত হবে— বাংলাদেশ কি সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হবে, নাকি দীর্ঘকালের জন্য একটি ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদী, পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে। একদিকে বাংলাদেশের মানুষ, আরেক দিকে একটি শাসক গোষ্ঠী। যারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে অন্যায়, বেআইনিভাবে ব্যবহার করে জনগণকে অত্যাচার নির্যাতন করে জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।’
আজকে জনগণ ও সরকার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আন্দোলন, গণতন্ত্রের জন্য যখন মানুষ মরছে, যখন আন্দোলনের জন্য মানুষ রাস্তায় নেমে গেছে, যখন দেশের মানুষ প্রায় ঐক্যবদ্ধ, সে সময় এই সরকার চেষ্টা করছে— কী করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে পুলিশ, র্যাব, আওয়ামী গুন্ডা, সন্ত্রাসীদের দিয়ে অন্যায় ও বেআইনিভাবে সেই আন্দোলনকে নস্মাৎ ও দমন করা যায়।’
আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচন হবে না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতারা নানা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়৷ মিডিয়া আজ কথা বলতে পারে না। এটা দিয়ে শেষ রক্ষা হবে না৷ সবাই মিলে যদি প্রতিবাদ না করে, তাহলে দেশ রক্ষা হবে না। আমাদের অধিকার নিশ্চিত হবে না।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘কয়দিন আগে আওয়ামী লীগের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘পরিকল্পিত নির্বাচন চাই না।’ তার মানে আওয়ামী লীগ পরিকল্পিত নির্বাচন করে। আজকে আবার পত্রিকায় বড় করে এসেছে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক তার রিপোর্টে বলেছে— ‘বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন অব ডিফল্ড লোনস।’ খেলাপি ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে। আগে শ্রীলঙ্কা চ্যাম্পিয়ন ছিল।’’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘এই সরকার আর এক মুহূর্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে, দেশের অবস্থা খারাপের দিকে যাবে। তারা জুডিশিয়ারি ও ইলেকশন কমিশন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে তারা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে, যাতে জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি না হয়। সেজন্য ব্যাঙের ছাতার মতো বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করেছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ হচ্ছে প্রতিশ্রতি ভঙ্গের দল, জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দল, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দল। তাই আমরা যারা দেশকে ভালোবাসি, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে চাই, মানুষের বিভেদ-বৈষম্য কমিয়ে আনতে চাই, তাদেরকে আজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে৷ অনেক চেষ্টা হবে আমাদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি করানোর। কিন্তু আমাদের ইস্পাত কঠিন ঐক্য নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা, গণতন্ত্রের মুক্তি, বাংলাদেশের মুক্তি, ভোটের অধিকার নিশ্চিত ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ তৈরি করতে হবে।’
জাগপার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম শাহাদাতের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ প্রমুখ।