রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপির তথ্য সংগ্রহ কমিটি

‘গায়েবি ও মিথ্যা মামলা, গুম, খুন, সহিংস আক্রমণ, অগ্নিসংযোগসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বাধা প্রদানকারী’ ব্যক্তিদের তথ্যাদি সংগ্রহ করতে কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। সহিংসতায় লিপ্ত ব্যক্তিদের নাম ও ভিডিও-অডিও রেকর্ড, ফটোগ্রাফ ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করবে এই কমিটি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে আহ্বায়ক করে ১৪ জনের এই টিম করা হয়েছে।

শনিবার (৩ জুন) রাজধানীর নয়া পল্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি জানান, এই তথ্য সংগ্রহ কমিটি সংগৃহীত তথ্য পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করে যথাসমীচিন ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তা সংরক্ষণ করবেন।

তথ্য সংগ্রহ কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন, হাবিব উন-নবী খান সোহেল, শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, মীর সরফত আলী সপু, আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, আকরামুল হাসান, মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, কামরুজ্জামান দুলাল, রফিকুল ইসলাম, মো. মাহবুবুর রহমান এবং সালাহ উদ্দিন খান।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, গত ১৯ মে থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে সারা দেশে মোট ১৫৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় আসামি প্রায় ৫ হাজার ৭৫০-এর বেশি। আর গ্রেফতার হয়েছেন ৭১০ জনেরও বেশি নেতাকর্মী।

তথ্য সংগ্রহ কমিটি গঠন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘গত ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত খুন, গুম ও গায়েবি বা মিথ্যা মামলার শিকার নিরীহ নিরপরাধ বিএনপি নেতাকর্মী তথা আপামর ভুক্তভোগী জনসাধারণ দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করে আসছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যতো এগিয়ে আসছে এই প্রবণতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে; যা ইতোমধ্যেই সুষ্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উপরন্তু ইতোমধ্যেই যারা এই অবিচার ও অমানুষিক অত্যাচারের শিকার ও ঘরবাড়ি ছাড়া হয়ে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, তাদেরও আইনি সহায়তা প্রদান তথা দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে যথাযথ আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়ার একটি তাগিদও বিএনপি অনুধাবন করছে।’

এসব কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘তারা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিনা কারণে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকারী নাগরিকদের ওপর খুন, গুম, মিথ্যা মামলা, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করে অর্থ আদায়সহ নানা ধরনের জঘন্য অনাচারে লিপ্ত হয়ে পড়েছেন। অথচ একটি গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সেই দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। দেশে দেশে সকল স্বৈরাচারই এ ধরনের মানবিক ও মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়। আর যারা এই কাজটি বাস্তবায়ন করে তারা মূলত ফৌজদারি অপরাধ করে।’