সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ

‘আইনমন্ত্রীর কথায় প্রমাণ হলো নিপীড়নের জন্য মামলা দেয় সরকার’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের জাতীয় সংসদে দেওয়া “আগামী নির্বাচনের আগে হয়রানিমূলক মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার” শীর্ষক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘তার এই কথায় প্রমাণিত হলো, গত ১৫ বছর যাবৎ সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বিএনপি নেতাকর্মীসহ বিরোধী মত ও সরকারের রোষানলে পড়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মামলা সম্পূর্ণভাবে ডাহা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক, শুধুমাত্র শারীরিক ও মানসিকভাবে নিপীড়ন করার জন্য।’

শুক্রবার (৯ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন।

রিজভী মনে করেন, শুধুমাত্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্যই রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রকামী মানুষের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা, হামলা, অত্যাচার, উৎপীড়ন, খুন, গুম, লুণ্ঠন, দুঃশাসন চালিয়ে আসছে অবৈধ সরকার। একদলীয় দুঃশাসনের অভিশাপ পুরুষানুক্রমে বহন করে আসছে বর্তমান অবৈধ সরকার।

বক্তব্যে রিজভী উল্লেখ করেন, ‘জবরদস্তিমূলক ক্ষমতা ধরে রেখে অবৈধ আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী গত ১৫ বছরে দেড় লাখ হয়রানিমূলক মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানসহ প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এবং গায়ের জোরে যে মামলাটিতে সাজা দেওয়া হয়েছে তাতে তার বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা ছিল না।’

‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এই সরকারের আমলে বিচারের রায় ছিল ফরমায়েশি ও আক্রোশমূলক। এখন তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় প্রতিদিন কোর্ট বসানো হচ্ছে, দিনে নয় রাতেও কোর্ট বসানো হচ্ছে— যা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন। গণতন্ত্র-ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলনের অপরাধে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে এখনও কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়িঘর ছাড়া করা হয়েছে, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দায়ের, পাইকারিহারে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নির্যাতন চালিয়ে দেশটাকে নরকে পরিণত করেছে আওয়ামী নিপীড়ক সরকার।’ বলেন রিজভী।

তিনি দাবি করেন, অবৈধ ক্ষমতা কণ্টকমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা এবং কমপক্ষে ১২০৪ জনকে গুম করেছে। তার প্রাইভেট বাহিনী, দলদাস আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ১২ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গুরুতর জখম ও চিরতরে পঙ্গু করে দিয়েছে। ছয় বছরের শিশু থেকে মায়ের পেটের বাচ্চাকেও গুলি করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তি, কোলের বাচ্চা, বিদেশে অবস্থানকারী মানুষ, জেলখানায় থাকা লোককে নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ইত্যাদি গায়েবি অভিযোগে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে তোলা হয়েছে। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত কেউই এই গায়েবি মামলা ও সরকারি নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে রেহাই পায়নি।’

‘আজ এতদিন পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের স্বীকারোক্তিতে দালিলিক সত্যতা নিশ্চিত হলো যে, আইন আদালত, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিভিল প্রশাসন,নির্বাচন কমিশন— সব গিলে খেয়েছে নিশিরাতের সরকার।’ বলেন রিজভী আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিনেতা শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, হাবিবুন নবী খান সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।