দুই বার প্রতারণার শিকার হয়েছি, আর নয়: মির্জা ফখরুল

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সরকার পার্লামেন্টে ১০ ভাগের বেশি ভোট পাবে না মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, যদি ‍সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হয়, তাহলে কোনও দিনই তারা (সরকার) ক্ষমতায় ফিরে আসা তো দূরে থাকুক, পার্লামেন্টে ১০ ভাগের বেশি ভোট পাবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা তো দুই বার প্রতারণার শিকার হয়েছি। থার্ড টাইম এ দেশের মানুষ আর প্রতারণার শিকার হবে না।’  

শনিবার (১০ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক স্মরণসভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বিএনপি নেতা গৌতম চক্রবর্তীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মরণ সভার আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত ১৮-তে ডেকেছিলেন আলোচনার জন্য, সংলাপের জন্য, আমরা গিয়েছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম, আলোচনার মাধ্যমে যদি একটা অবস্থা তৈরি হয়, সেই অবস্থায় আমরা যদি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারি, তাহলে জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা পরিবর্তন ঘটাতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘‘আইনমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, ‘যখন নির্বাচন চলবে, তখন আর কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। আটক করা যাবে না।’ এ কথা কে বিশ্বাস করবে? এ তো রাখাল বালকের গল্পের মতো। রাখাল বালক গ্রামবাসীকে বোকা বানানোর জন্য বাঘ আসছে বলে চিৎকার করতো। কিন্তু বাঘ আসেনি। তৃতীয়বার যখন সত্যি সত্যি বাঘ এসেছিল, তখন রাখাল বালক চিৎকার করলেও গ্রামবাসী আর আসেনি।’’

তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখন ‘লাইভ ইস্যু’ মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘‘ক্ষমতাসীন দলের নেতা-মন্ত্রীরা বলছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখন ডেড ইস্যু’। ডেড ইস্যু হবে কেন? এটা সবচেয়ে লাইভ ইস্যু। কারণ, আমরা মনে করি, এই সরকারের এই মুহূর্তে পদত্যাগ করা উচিত।’’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু তার বক্তব্যে ‘প্রয়োজনে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বিএনপির সঙ্গে আলোচনার কথা বলেছেন’ তারই পরিপ্রেক্ষিতে এবারও জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সংলাপ কথা উঠেছে— উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা তো দুই বার প্রতারণার শিকার হয়েছি। থার্ড টাইম এ দেশের মানুষ আর প্রতারণার শিকার হবে না। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, তোমাদের এই সব কথায় কেউ ভুলবে না। কারণ, কখনই তোমরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করোনি।’

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, ফ্রন্টের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, তপন চন্দ্র মজুমদার, সুশীল বড়ুয়া, ভাইস চেয়ারম্যান অপর্ণা রায়, নিতাই চন্দ্র ঘোষ, রমেশ দত্ত, প্রয়াত নেতার ছেলে গৌরব চক্রবর্তী প্রমুখ বক্তব্য দেন।