বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘কারা জনগণের অধিকার (ভোট) আদায়ের সংগ্রামের পক্ষে, আর কারা বিপক্ষে; দেশের জনগণ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো তা গভীর পর্যবেক্ষণ করছে।’ শুক্রবার (১৬ জুন) বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৪ জুন) বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলেন, ‘র্যাব ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থানকে সমর্থন করে চীন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য সার্বিকভাবে সহায়তা করবে চীন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্য আমাদের নজরে এসেছে। একটি দেশ নিজেদের বর্ণবৈষম্য, অস্ত্রের সহিংসতা ও মাদক সমস্যার প্রতি নজর না দিয়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অজুহাত দিয়ে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছে।’
চীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান কী— জানতে চাইলে আমির খসরু বলেন, ‘দেশের মানুষ ভোটাধিকার পাওয়ার সংগ্রাম করছে। একটি দখলদার সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি মানবাধিকার, গুম-খুনের বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নেমেছে। কোনও দেশ তার বিরুদ্ধে গেলে, অবৈধ দখলদার সরকারের ক্ষমতাকে অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালায় তারা কোনও দেশের বন্ধু হতে পারে না। সেই দেশের মানুষের বন্ধু হতে পারে না।’
আমির খসরু উল্লেখ করেন, ‘দেশের জনগণ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো এসব বিষয়কে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে— কারা জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের পক্ষে, কারা বিপক্ষে।’
এরআগে, শুক্রবার (১৬ জুন) বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজ যারা গুম-খুন মিথ্যা ও গায়েবি মামলার জন্য দায়ী আগামীতে তাদের বিচার করা হবে। তাদের প্রত্যেকটি ঘটনার এবং এত দীর্ঘ সময়ের প্রত্যেকটা ঘণ্টার হিসাব দিতে হবে। শুধু দেশে নয়, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় বিচার হবে। আগামীতে সব গুম-খুনের বিচার করা হবে। তা না হলে আগামীতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।’
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) উদ্যোগে গুম-খুন, নির্যাতিত, অসহায় ও অসচ্ছল নেতাকর্মীদের সন্তানদের জন্য জেডআরএফ’র রিহ্যাবিলিটেশন কমিটির তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী জেলাভিত্তিক শিক্ষা উপবৃত্তি-২০২৩ প্রদানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আমির খসরু আরও বলেন, ‘বিএনপি সংঘাত নয়, শান্তিতে বিশ্বাসী। আমার গণতন্ত্র ও আইনের শাসন চাই। সেজন্য প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যারাই গুম-খুন ও মিথ্যা-গায়েবি মামলায় জড়িত তাদের বিচারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা হবে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থাকে এই বিচারে সম্পৃক্ত করা হবে। যার ভিত্তিতে আগামী সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পরিচালিত হবে।’
বিএনপির গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর আর্তনাদ বলার মতো না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব কারণে বহির্বিশ্ব আগামীতে বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়।’
জেডআরএফ’র শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প উপ-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, জেডআরএফ’র রিসার্চ সেলের আহ্বায়ক ডা. সৈয়দা তাজনিন ওয়ারিস সিমকী, রিহ্যাবিলিটেশন কমিটির আহ্বায়ক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ ও সদস্য সচিব ডা. পারভেজ রেজা কাকন প্রমুখ।