আমাদের একটাই দাবি খালেদা জিয়াকে ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেন। আর যদি না ছাড়েন, তাহলে জনতা তাকে জেল ভেঙে মুক্ত করে নিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।
বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এবং কেন্দ্রীয় বিভিন্ন নেতার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি, জিয়াকে ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেন। আর যদি না ছাড়েন, তাহলে জনতা তাকে জেল ভেঙে মুক্ত করে নিয়ে আসবে। এখন পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে— প্রধানমন্ত্রী আপনি একটু বুঝার চেষ্টা করেন। আপনি সরকারি কর্মচারীদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন, যাতে তারা ভয় না পায়। ভয় তো ছায়ার মতো আপনার চারদিকে ঘোরাঘুরি করছে। এটা দেশবাসী ও সরকারি কর্মকর্তারাও জানেন। এই জন্য সরকারি কর্মকর্তারা আপনার কথায় আশ্বস্ত হতে চাচ্ছেন না।’
পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই পুলিশের শতকরা ৫ জন বাদে বাকি ৯৫ জনই ভালো ছিল। এই পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ করেছে। এই পুলিশ সুনামের অধিকারী ছিল। পুলিশকে সরকার অপরাধী হিসেবে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। সরকার অপরাধীদের প্রমোশন দেয়। লজ্জা লাগে আমাদের।’
দুদু আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তারেক রহমান সাহেবকে কথা নেই বার্তা নেই দিন- রাতে কোট বসিয়ে আপনারা সাজা দিয়ে দিলেন। তাকে এত ভয় কেন। আমরা তো আপনার (প্রধানমন্ত্রী) সম্মানজনক একটা বিদায়ের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলাম। এ কারণে আমরা আপনার পদত্যাগের দাবি করেছি। পদত্যাগ করলে আপনি সহিসালামতে একটি ভালো জায়গায় যেতে পারতেন। গণঅভ্যুত্থাননে যদি পতন হয়, তাহলে আপনার অবস্থা কোন জায়গায় কীভাবে দাঁড়াবে চিন্তা করেছেন! ’৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে দেখেননি আইয়ুব খানের কীভাবে পতন হয়েছে, ’৯০ এর গণঅভ্যুত্থান দেখেননি এরশাদের কীভাবে পতন হয়েছে।’
তারেক রহমানকে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই দেন। তার বিরুদ্ধে থাকা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আর জুবাইদা রহমানের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চান। যাকে খুশি আপনি (প্রধানমন্ত্রী) মামলা দিচ্ছেন। একটু ভাবেন তো এক কিংবা দুই মাস পরে তো ক্ষমতায় থাকবেন না। পৌনে ২ লাখ মামলায় ৪০ লাখ আসামি করা হয়েছে। আমরা যদি কোর্টে হাজিরা না দেই, আমরা যদি জেলখানার সামনে যাই, ৪০ লাখ লোককে কোথায় রাখবেন৷ এখনও সময় থাকতে সুন্দরভাবে প্রস্থানের জন্য পদত্যাগ করেন। সময় থাকতে থাকতে। আর না করলে অমর্যাদাকর পরিস্থিতি আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। সেটা আপনার জন্য ভালো হবে না। কারণ, শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা আপনি। আমরা আপনার খারাপ চাই না।’
গণঅধিকার পরিষদের একাংশের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘বিএনপি গণতন্ত্রের লড়াই করে এবং করছে। দুইবার আমাদের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ বহু দলীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। একবার করেছে শেখ মুজিব রহমান, আরেকবার করেছে তার মেয়ে। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার যে কৃতিত্ব, সেটা দেওয়া উচিত জিয়াউর রহমানকে। ’৭৫ সালে উনি সব রাজনৈতিক দলকে ফেরত আনলেন। এই কৃতিত্ব ওনাকে দিতে কেন এত কার্পণ্য করে আমি বুঝি না। দ্বিতীয়বার ১৯৯০ সালে খালেদা জিয়া যে কষ্ট করেছিলেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্যে, এটার একটা স্বীকৃতি দিতে হবে। এই দুইজনকেই স্বীকৃতি দিতে হবে। আওয়ামী লীগ দুইবার গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, আর বিএনপি দুইবার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই সিম্পল ইতিহাস মনে রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘যেভাবে এই জালিম সরকারের অধীনে অত্যাচার হচ্ছে, দুই হাজার আলেম-উলামাদের জেলে আটকে রেখেছে এই সরকার। জামায়াতে ইসলামীর প্রধানকে জেলে রেখেছে। ওদের কোনও মামলার রায়ের ওপর আমার কোনও ভরসা নেই। ওরা কাকে বিচার করে, কাকে অপরাধী বলে, কাকে নিরপরাধী বলে আমি বিশ্বাস করি না। জনগণ এই রায় মানে না। এই সরকার পতনের পর আমরা এসব রায়কে উঠিয়ে নতুন ব্যবস্থা নেবো। যারা আসল অপরাধী তাদেরকে ধরা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘তারেক রহমান, জুবাইদা রহমানসহ বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে নামা আমার দল গণঅধিকার পরিষদ ও ৩৭ দলের কর্মীদের নামে আওয়ামী লীগ যে মামলা দিয়েছে, সেগুলো টিকবে না। তারা যত খুশি মামলা দিক। তারা ভাবছে এই মিথ্যা মামলা দিয়ে আন্দোলনকে আটকাতে পারবে। এই মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের আটকাতে পারবে না। তারা আমাদের আরও রাগান্বিত করছে। কিন্তু আমরা সুদৃঢ়ভাবে সঠিক পথে আছি, সেটা আমরা বুঝতে পারছি। এই জালিম সরকারকে হঠানো ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় নাই। তাই আমাদের এটা করতে হবে, বাঁচার জন্য করতে হবে। এদের আর কোনও স্থান বাংলাদেশে থাকার কথা না। আওয়ামী লীগ একটা ‘সেতু’ পার হয়ে ক্ষমতায় গিয়েছে, সেটা হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তারা সেই সেতুটা পার হয়ে ওপারে গিয়ে ক্ষমতা নিয়ে সেই সেতুটাকে উড়িয়ে দিয়েছে। যাতে আর কেউ ব্যবহার না করতে পারে।’’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মো.ওমর ফারুক পীর সাহেবের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় দলের অন্যান্য নেতা বক্তব্য রাখেন।