বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, দেশের কারাগারগুলো এখন ভয়াবহ নিপীড়ন-নির্যাতনের আয়নাঘর। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর পর রাখা হয় কারাগারের দম বন্ধ করা সেলে। দিনরাত তাদের লকআপে রাখা হয়। ডাকাতি ও খুনের অপরাধীরা কারাগারে যে অধিকার ভোগ করে সেটুকুও বিএনপি নেতাকর্মীদের নেই।
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘কেরানীগঞ্জ কারাগারে শাপলা বিল্ডিংয়ে বেশির ভাগ বিএনপি নেতাকর্মীদের দিনরাত আটকে রাখা হয়। খাবার দেওয়া হয় অত্যন্ত নিম্নমানের, যেগুলো গরু-ছাগলের খাবারের জন্য প্রযোজ্য। নিজের টাকা দিয়ে খাবার কেনার নিয়ম থাকলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের সেই অধিকার দেওয়া হয় না।’
‘বিএনপি নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে আর্থিক, মানসিক ও শারীরিক শোষণ-বঞ্চনা করা হচ্ছে। কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি জেল বিপজ্জনক জঙ্গি অপরাধীদের জন্য। সেখানেই বিএনপির নেতাকর্মী, ইউনিভার্সিটি, কলেজের ছাত্রদের গাদাগাদি করে রাখা হয়।’ যোগ করেন বলেন রিজভী।
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) নিয়ে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘আইজি প্রিজন হচ্ছেন আওয়ামী ফ্যাসিবাদের এক বিশ্বস্ত সহচর। তিনি সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে কারাগারে বিএনপি নেতাকর্মীদের গতিবিধি নজরদারি করেন, সেলে সার্বক্ষণিক আটকিয়ে রাখার জন্য। নিয়ম অনুযায়ী রাত শেষে সকালে লকআপ খুলে দেওয়া হয়। দিনের বেলায় কারাগারের প্রাঙ্গণে বিচরণের বিধান আছে, অথচ বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাগ্যে সেই সুযোগটুকু এখন নেই।’
রিজভী উল্লেখ করেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীরা যাতে নিদারুণ কষ্ট ও দুর্দশার মধ্যে দিন যাপন করেন, এটিই আইজি প্রিজনের প্রধান কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।’