বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, জোর করে দখল করাকেই বলে ধর্ষণ। আজকে সারা দেশ ধর্ষণের শিকার। আজকে আমরা বিচার চাই না। কার কাছে বিচার চাইবো? যেখানে প্রক্টর, প্রিন্সিপাল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ-প্রশাসন, বিচার বিভাগ—যারা দালালি করে, চুপ করে বসে থাকে, তাদের কাছে কীসের বিচার ?
মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম আয়োজিত ‘নারী সমাজের ওপর অপমানের শেষ কোথায়?' শীর্ষক এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
সেলিমা রহমান বলেন, ‘‘আজকের এই মানববন্ধন প্রতিবাদের মানববন্ধন নয়। এটা প্রতিরোধের মানববন্ধন। আজকের এই ‘ডামি’ সরকারের সোনার ছেলেরা জাহাঙ্গীরনগরে এক নারীকে ধর্ষণ করেছে। আওয়ামী লীগ এই সোনার ছেলেদের হাতে অস্ত্র ও লাঠি তুলে দিয়েছে। যার ফলে এই সোনার ছেলেরা এক ধরনের সোনার সোহাগায় পরিণত হয়েছে। এই দেশে এই সোনার ছেলেদের বিরুদ্ধে কারও কাছে বিচার চাওয়া যাবে না। কারণ এই অবৈধ সরকার বিচার ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে দেশের মানুষকে এক হয়ে রাজপথে নেমে আসতে হবে। আন্দোলন করে এই সরকারকে বিতাড়িত করতে হবে। এর মাধ্যমেই আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু বলেন, ‘বর্তমান সরকার মানুষের সব অধিকার হরণ করেছে। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কথামতো ভোট না দেওয়ায় এক মহিলাকে ধর্ষণ করা হয়। এটাই মূলত আওয়ামী লীগের চরিত্র। তাদের মূল কাজ হচ্ছে মানুষের অধিকার হরণ করা এবং দেশ থেকে রাজনীতি বিতাড়িত করা। এর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা।’
অচিরেই বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করবে—এমন মন্তব্য করে মিন্টু বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের একটাই কাজ, তা হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করা। ইনশাআল্লাহ, অচিরেই দেখবেন বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগ বিতাড়িত হবে। আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি নাকি নিষিদ্ধ করা হবে। আমি বলবো, অচিরেই বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করবে। তাদের আর রাজপথে দেখতে পাবেন না।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান প্রমুখ।