বুধবার বিকালে রাজধানীর নয়া পল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রহুল কবির রিজভী বলেন, মানুষের জানমালের বিপন্নতা, সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি, ক্ষমতার আড়ালে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া, বিরোধী সমালোচনার কারণে নির্বিচারে গুম, খুন, ক্ষমতার আড়ালে সীমাহীন দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া, সর্বোপরি গণতন্ত্রকে হত্যার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকেই জনতার আদালতে প্রধান আসামি হিসেবে দাঁড়াতে হবে। আর তার সহযোগী হিসেবে নির্বাচন কমিশন হবে কালো তালিকাভুক্ত দ্বিতীয় প্রধান আসামি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাক-স্বাধীনতা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা, চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। এ দেশে সম্মানিত বিচারকরা জুডিসিয়াস মাইন্ড নিয়ে রায় লিখতে পারবেন না। আইন ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নয়, ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছানুযায়ী রায় লিখতে হবে। ক্ষমতাসীনরা তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী রায় চায়। আর তাদের প্রত্যাশা পূরণ না হলে প্রয়োজনে আদালত অবমাননা করে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধেও বিষোদগার করতে ছাড়েন না। মনে হয়, তাদের ক্ষমতা রাষ্ট্রের সব অঙ্গের ঊর্ধ্বে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের নিয়ন্ত্রণ এখন অপরাধীদের হাতে। গণতন্ত্রের অস্তিত্ব, আইনের শাসন এবং মানুষের নিরাপত্তা এখন বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত বেপরোয়া ব্যক্তিদের হাতে। নির্বাচন কমিশন সরকারের অপরাধের সহযোগী। দেশজুড়ে ইউপি নির্বাচনি এলাকাগুলোতে জনগণের অংশগ্রহণকে পদদলিত করে তাদের ছিনতাই করা বিজয়কে বৈধতার সনদ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আর ইসি এই অনাচারকে সর্বনাশা আশকারা দিয়ে যাচ্ছেন।
দেশের প্রধানমন্ত্রী কখনোই পরিশীলিত রাষ্ট্রনেতার মতো কথা বলেননি বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা যেন শ্বাপদের মতো জিঘাংসার বহিঃপ্রকাশ। এটি গর্হিত, অনভিপ্রেত, সভ্য রাজনীতি চর্চার ক্ষেত্রে চরম লজ্জার। এটি পাগলের প্রলাপ। এটা নতুন কিছু নয়, কটূক্তি, পেশী প্রদর্শন আর উগ্রচণ্ডা আওয়ামী সংস্কৃতিরই অংশ। প্রধানমন্ত্রী সেটিই প্রমাণ করেছেন। তার কথা শুনে মনে হয়- তিনি একটি কারাগার এবং বধ্যভূমির একচ্ছত্র অধিপতি।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খুলনা জেলায় ইউপি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পৈশাচিকতা ও বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। সেখানে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশালীন আচরণসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থীদেরকে প্রচণ্ড বাধা দিচ্ছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। প্রশাসনও এ ব্যাপারে নিশ্চুপ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।
/এসটিএস/এএইচ/