গোপালগঞ্জের হামলা নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র কিনা প্রশ্ন ফারুকের

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, এখন সবারই একটা ধারণা, গোপালগঞ্জের এই হামলা নির্বাচন পেছানোর নতুন কোনও ষড়যন্ত্র কিনা। গতকাল গোপালগঞ্জে যে আক্রমণ ও ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেটা কি বোঝাতে চেয়েছে আমরা জানি না। এটা কিসের আলামত? যখনই লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তখনই একটি পক্ষ দেশের মধ্যে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আমরা কিন্তু ভেসে আসি নাই। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা করে বসে থাকেননি, সেক্টর কমান্ডার হিসেবে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাসাসের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী গণসংগীত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, গতকাল গোপালগঞ্জে কোন শয়তান এনসিপির নেতাদের ওপর হামলা করলো? আওয়ামী লীগের আমলে এক লাখ পুলিশ নিয়োগ হয়েছে। তারা এখন শপদে বহাল আছে। আওয়ামী লীগের দোসরা এখনও কেন সচিবালায়সহ বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন জেলায় আছে? ১১ মাস চলে গেলো, একটা নির্বাচন দিতে পারেননি। যখনই নির্বাচনের দিন-তারিখের কথা বলেছেন, তখনই ষড়যন্ত্র শুরু হলো। এখন সবারই একটা ধারণা, গোপালগঞ্জের এই হামলা নির্বাচন পেছনের নতুন ষড়যন্ত্র কিনা। কারণ দেশে অনির্বাচিত সরকার থাকলে পরিস্থিতি ভালো থাকে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।

তিনি বলেন, যে বাংলাদেশে আর আয়নাঘর তৈরি হবে না, থানায় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন করবে না, সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে পারবে, এই বাংলাদেশ নির্মাণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন আমাদের নেতা তারেক রহমান। বিএনপির বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা বন্ধ না হলে আমরা জনগণকে নিয়ে রুখে দাঁড়াবো। এই সরকারকে বলবো, আপনারা একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দিন, যাতে জনগণ তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা বুঝে-শুনে কথা বলেন। অতীতে আপনারা বুঝে-শুনে কথা বলেন নাই। ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনী যখন বাঙালির ওপর হামলা করে, তখন কারা আনন্দ মিছিল করেছে, কারা পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, তা সবাই জানে। আপনাদের ইতিহাস জাতি জানে, আপনাদের ইতিহাস জাতির কাছে প্রকাশ করতে চাই না। আপনারা জাতির কাছে ক্ষমা চান।

জাসাস আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন– জাসাসের সদস্য সচিব জাকির হোসেন, সংগীতশিল্পী ন্যান্সি, যুগ্ম আহ্বায়ক আহসানুল্লাহ জনি প্রমুখ।