শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজে তারেক রহমান

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে নিয়ে নৈশভোজ ও মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  

সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে এই অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই সেখানে যান আমন্ত্রিত অতিথিরা। 

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছান। এসময় তিনি সভার খোঁজ খবর নেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।  

তবে আগেই সেখানে না যাওয়ার কথা জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) নেতারা। তারা জানান আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে দলগতভাবে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।  

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে নিয়ে বিএনপির নৈশভোজ ও মতবিনিময় সভা

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম যুগপৎ শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের পর বিভিন্ন কারণে তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তারেক রহমান। এতে অনেক শরিক মান-অভিমান করে দলটির সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছেন। তাই দূরত্ব কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

নৈশভোজে যারা যোগ দিলেন  

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে বেশিরভাগ মিত্র দলের নেতারা অংশগ্রহণ করেছেন। উল্লেখযোগ্যরা হলেন— বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোস্তফা জামাল হায়দার, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একাংশের সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান। 

যোগ দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন যারা  

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে নিয়ে বিএনপির নৈশভোজ ও মতবিনিময় সভা

এবারের নৈশভোজে অংশ নেয়নি বিএনপির দুই গুরুত্বপূর্ণ মিত্র জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)।  

জেএসডির সহ-দফতর সম্পাদক ফারহান হাবীব জানান, আমন্ত্রণ পেলেও তারা যাচ্ছেন না। নির্বাচনে আসন বণ্টন, সরকারে মূল্যায়ন না পাওয়া এবং অসুস্থ আ স ম আবদুর রবকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কেউ দেখতে না যাওয়ায় দলটি মনঃক্ষুণ্ণ। তবে বিএনপির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি বলেও জানান তিনি। 

অপরদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকও বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করে জানানা, দলের পক্ষ থেকে নৈশভোজে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। দলীয় সূত্রের দাবি, সরকারে যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত।