স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের সুযোগ নেই: ডা. জাহিদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, কোনও অবস্থাতেই দেশে স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের সুযোগ নেই। একইসঙ্গে জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ যাতে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

রবিবার (২৬ জুলাই) বিকালে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (জেটেব) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

ডা. জাহিদ বলেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা বসে নেই; তাদের সহযোগীরাও সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করা হলেও জনগণ তা ব্যর্থ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। তবে বিএনপি সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অধিকার রক্ষায় বিশ্বাসী এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে কাজ করবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে অন্যায়, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের কোনও স্থান থাকবে না।

জুলাই-আগস্টে নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি অধিদফতর গঠন করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান জুলাই শহীদ, গুমের শিকার ব্যক্তি, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করবে।

তিনি বলেন, অনেক জুলাই শহীদের কবর শনাক্ত করা গেলেও গুম হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাদের পরিবার জানে না তারা জীবিত না মৃত।

ডা. জাহিদ দাবি করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দীর্ঘদিন পর মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিয়েছে এবং জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। তিনি বলেন, যখনই গণতন্ত্র সংকটে পড়েছে, বিএনপি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

আলোচনায় তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৪ সালের আন্দোলন, ওয়ান-ইলেভেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনাও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হয়েছিল।

জেটেবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এ বি এম রুহুল আমীন আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতাকর্মী ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।