ভারতের ‘দ্বিমুখী নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ``পৃথিবীর নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট ও নাৎসিরা জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতো। কিন্তু হাসিনার সঙ্গে তাদের পার্থক্য কী? নাৎসি হিটলার ও মুসোলিনির মতো ফ্যাসিস্টরা জাতিগত নিপীড়ন চালিয়ে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। শেখ হাসিনাও তাদের মতো রক্তপিপাসু ছিলেন।‘’

বুধবার (৫ আগস্ট) গুলশানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ১৭ বছরের আন্দোলনের  চিত্রপ্রদর্শনী শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের দিল্লিতে ‘সাউথ এশিয়ান জার্নালিস্টস’র একটি অনুষ্ঠানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ‘‘হাসিনা পলাতক, ফাঁসি ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও তার জন্য ভারত সরকারের মায়া। এত মায়া যে তাকে ভিডিও বার্তা না হলেও অডিও বার্তার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটি ভারত সরকারের দ্বিমুখী নীতির (ডাবল স্ট্যান্ডার্ড) প্রকাশ। দেশটি  এমন আচরণ করছে যেন অন্য দেশের কোনও পলাতক ও দাগি আসামি যদি ‘ভারতপ্রেমিক’ হয়, তবে তার সাত খুন মাফ।’ ভারতের এমন আচরণের নিন্দা জানানোর ভাষা নেই।’’

তিনি বলেন, ‘‘হিটলার-মুসোলিনি ছিলেন ভয়ংকর খুনি ও ফ্যাসিস্ট, কিন্তু তাদের মধ্যে নিজ দেশের প্রতি ভালোবাসা ছিল। অথচ হাসিনার মনে নিজ দেশের প্রতি ভালোবাসা তো দূরের কথা, গোটা জাতিকে লুণ্ঠন করে নিজের আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করাই ছিল মূল এজেন্ডা। তিনি এই এজেন্ডা থেকে কখনও সরে আসেননি। তাই তিনি ছিলেন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট।’’

রিজভী বলেন, ‘‘রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে এক বিশেষ চোরাপথে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে। সেভাবেই এই দেশে এক নির্মম ও নিষ্ঠুর ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছিল। যা ছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদ। তারা সব সময় মানুষকে প্রলোভনমূলক কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে সেই ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য জনগণের রক্তগঙ্গা বইয়ে দিতে দ্বিধা করেনি।’’

রিজভী আরও বলেন, ‘‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল এক বিশাল জাগরণ। এই গণঅভ্যুত্থান ছিল অত্যাচারীর বিরুদ্ধে জনগণের অন্তর্নিহিত শক্তির এক পারমাণবিক বিস্ফোরণ। জনগণের মধ্যে সুপ্ত থাকা এই শক্তির কথা হাসিনা উপলব্ধি করতে পারেননি। আর সে কারণেই তিনি বারবার ভুয়া ও পাতানো নির্বাচন করেছেন, ‘আমি-ডামি’ নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছেন। বিশ্বের দু-একটি দেশ ছাড়া কেউ সেই সরকারকে সমর্থন করেনি। তবু নির্লজ্জের মতো তারা জোর করে ক্ষমতায় ছিল।