আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের হাইকমান্ড।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে দলীয় চেয়ারম্যানের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করার পরপরই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
রিজভী জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা নেতারা। সেখানে কোনো বিষয়ে সমাধান না হলে কেন্দ্রীয়ভাবে তা নিষ্পত্তি করা হবে।
তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। রিজভীর ভাষায়, এ ক্ষেত্রে হাইকমান্ড ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।
সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরার নির্দেশ
বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কাছে তুলে ধরতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান রিজভী।
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজকোষ খালি করে যাওয়া হয়েছে। এরপরও বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রাজশাহী বিভাগের পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রিজভী জানান, দলের তৃণমূল সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জেলা ও মহানগর শাখার নেতাদের সঙ্গে এ ধরনের বৈঠক করছেন দলীয় চেয়ারম্যান। প্রতি বৃহস্পতিবার ও শনিবার এসব সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার, কৃষক দলের সভাপতি মো. হাসান জাফির তুহিন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ গোলাম যাকারিয়াসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।