একটি চক্র দেশ ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি চক্র সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু সব প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে সরকার এবারের দুর্গাপূজায় নিরাপত্তাবলয় তৈরি করার জন্য সার্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বেগম হাসিবা উচ্চবিদ্যালয়ের ২৯তম বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং দলের পক্ষ থেকে জাতীয় কমিটি করে পূজা কমিটির সঙ্গে  যোগাযোগ রক্ষা করতে বলা হয়েছে। নেতা-কর্মীদের বলা হয়েছে, মণ্ডপ কমিটির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতে, পাহারার ব্যবস্থা করতে এবং তাদের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করতে।’

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একজন মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হলে তার শিক্ষা অর্জনের বিকল্প নেই। যদি সে ন্যূনতম শিক্ষা অর্জন করতে না পারে, তাহলে বঞ্চনার শিকার হতে হয়, প্রতারণার শিকার হতে হয়। সর্বজনীন শিক্ষা মানুষের জন্মগত অধিকার। আর এর প্রসারের জন্য যিনি কাজ করেন, তিনি অত্যন্ত মহতী ব্যক্তি বলে আমি মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘এই স্কুলে এসে, বিস্তৃত মাঠ দেখে আমার সেটাই মনে হয়েছে। আমি তাকে সম্মান জানাই, যারা নিজেদের পেশাগত জীবনে অবদান রেখেছেন কিন্তু নিজের এলাকাকে ভুলে যাননি। এলাকায় উন্নয়নে পাশে ছিলেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার সামছুল আলম পোখরাজ।’

এলাকাবাসীর উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘এ এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাস বেশি। এখানে খন্দকার আবু আশফাক আপনাদের এমপি। এর আগেও তিনি কয়েকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখানকার হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের অত্যন্ত প্রিয় তিনি। আমি অনেকবার এ এলাকায় এসেছি। প্রতিটি মানুষ তার দ্বারা উপকৃত হয়। এখানকার মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। আমি এ কারণে মনে করি, আসন্ন দুর্গাপূজা অত্যন্ত নিরাপদ ও নিরাপত্তাময় করার জন্য তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।’

রিজভী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘জীবনকে অর্থবহ করতে শিক্ষা গ্রহণ অপরিহার্য। তেমনি খেলাধুলা, শরীরচর্চা শরীর গঠনে সহায়ক। তাই সুস্থ জীবনের বিকাশ ঘটাতে নিজেকে সুস্থ বিনোদন ধারায় সম্পৃক্ত রাখতে হবে।’

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বলেন, ‘এ দেশটা আমাদের সবার। আমরা সবাই নিজেদের মতো বাঁচব। নিজেদের জীবনধারায় ধর্ম পালন করব। আমরা কেউ কারও ধর্মকে ছোট করে দেখবো না।’

বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি খন্দকার আবু হাসান সবুজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ রানা এবং বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি তাহমিনা আদনান।

আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন নাছির। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রাধেশ্যাম বাড়ৈর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন দোহার সার্কেলের পুলিশ সুপার (এএসপি) শামীম হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুল কালাম, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম, আবু শফিক খন্দকার মাসুদ, নবাবগঞ্জ থানার ওসি আবু হানিফ প্রমুখ।