১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিল না চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তারা কি জোটে রয়েছে কিনা এই নিয়েও উঠে প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুললেন জামায়াতে ইসলামী আমির ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলমান। আশা করছি আমাদের ঐক্যে তারা আসবে। তাদের অবস্থান পরিষ্কার হলেই আসন সংখ্যা ঘোষণা করা হবে।”
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে আমির এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১১ দলে আমরা কেউ কাউকে আসন দেয়নি। পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই আসন বণ্টন করা হয়েছে। ৫৪ বছরের ঘুণে ধরা রাজনীতিকে পরিবর্তন করতে চাই। খুন ও চাঁদাবাজির বাংলাদেশ চাই না। এবারের নির্বাচনে মানুষ পরিবর্তন চায়। তাদের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব নিয়েই আমরা মাঠে নেমেছি। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে আমাদের তরুণরা ভোট দিতে পারেনি। এবার আমরা তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই। অতীতের মতো কোনও ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মেনে নেওয়া হবে না।” ৪৭, ৭১ ও ২৪-এ যারা জীবন দিয়েছে তাদের স্মরণ করে জামায়াতের আমির বলেন, “আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
শরিফ ওসমান হাদিকে স্মরণ করে শফিকুর রহমান বলেন, “সে নিজেই ছিল একটি বিপ্লব। তাকে কারা হত্যা করেছে তা মানুষ জানে। তার বিচার হওয়া বড়ই প্রয়োজন। তাহলে অন্যরাও দেশপ্রেমে উৎসাহিত হবে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের এক ঐতিহাসিক যাত্রা ও সমঝোতা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচন মহান মুক্তিযুদ্ধের সাম্য ও মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। আমাদের মধ্যে কোনও দলীয় প্রার্থী থাকবে না। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা এক হয়েছি। এতে আমাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। নির্বাচনে প্রতিটি আসনে ওয়ান বক্স পলিসিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
এলডিপির প্রসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, “মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসন দেখেছেন। এখন ন্যায়ের শাসন ও চাঁদাবাজমুক্ত শাসন দেখতে চায়। দিল্লির দাসত্বমুক্ত বাংলাদেশ চায়। আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই।”