ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন চায় জামায়াত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি এলাকায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় একটি দল গত শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনি পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনে পাওয়া নয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিতভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ দেওয়ার পরও স্থানীয়ভাবে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নির্বাচন কমিশনকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, একটি মাত্র উপনির্বাচন হওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় তিন গুণ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। তবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, শুধু বাহিনীর সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিরপেক্ষতাও নিশ্চিত করতে হবে।

অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে উপনির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, ওই নির্বাচন একটি সরকারকে বিদায় করে দিয়েছিল। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচন যেন মাগুরার নির্বাচনের মতো পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জামায়াতের এ নেতা আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের কর্মকর্তা, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের আচরণে তারা নিরপেক্ষতা দেখতে পাননি। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না বলে মনে করছে দলটি।

নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত এখনো নির্বাচন থেকে সরে যায়নি। দলটির প্রার্থী মাঠে রয়েছেন এবং তারা নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে সে জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনকে মাগুরার নির্বাচনের মতো পরিস্থিতিতে পরিণত করা যাবে না। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তার রাজনৈতিক পরিণতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।