চোখের অপারেশনের পর চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে ছাত্রশক্তি নেতা আলিফ

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রডের আঘাতে আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরীর (১৯) চোখে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইওএইচ) তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইনস্টিটিউটের এক চিকিৎসক আজ বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আহত আলিফ চৌধুরীর চোখের উপরের পাতা এবং নিচের পাতায় নেত্রনালীর মুখে আঘাতপ্রাপ্ত ছিল। তার কর্নিয়ায় গুরুত্বর ড্যামেজ ছিল। অর্থাৎ বাইরে থেকে যে ক্ষতি ছিল, সেগুলো আমরা অপারেশনের মাধ্যমে ঠিক করেছি। তবে ভেতরের কী অবস্থা, সেটা আমরা এখনও দেখিনি। বাইরের দিকের ক্ষত ঠিক হলে আমরা ভেতরে পরিষ্কার দেখতে পাবো। তখন আমরা বলতে পারবো, বাইরে ক্ষত কতটুকু আর ভেতরে কতটুকু। তবে ভেতরের ইনজুরির ওপর নির্ভর করবে দৃষ্টিশক্তি কতটুকু পাবে। এখন তার চোখ ব্যান্ডেজ করা আছে।’

এদিকে আহত আলিফ চৌধুরী এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মিডিয়া সেলের প্রধান মাহবুবুল আলম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছাত্রদলের হামলায় আহত নবীগঞ্জ উপজেলার ছাত্রশক্তির সমন্বয়ক আলিফ চৌধুরীর বাম চোখে আঘাত পেয়েছিলেন। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার বাম চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।’ অপারেশনের পরও তার আঘাতপ্রাপ্ত চোখের দৃষ্টিশক্তি ফেরানো সম্ভব হয়নি বলে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে দাবি করেন তিনি।

এই দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ইনস্টিটিউটের ওই চিকিৎসক বলেন, ‘এভাবে এখনই বলা যাবে না। তার চোখে এক্সটেন্সিভ ইনজুরি রয়েছে। ইনজুরিগুলোর অপারেশন করা হয়েছে। কাল (শুক্রবার) পর্যন্ত আমরা এটা পর্যবেক্ষণ করবো। পরশুদিন (শনিবার) একটা বোর্ড করা হয়েছে, সবাই এটা দেখার পরে বলতে পারবো, যে আসলে কী অবস্থা।’ 

এদিকে আলিফকে দেখতে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকালে হাসপাতালে গিয়েছেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা। 

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে ছাত্রদলের ঘটনায় গুরুতর আহত হন জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সংগঠক আলিফ চৌধুরী (১৯)। ঘটনার পর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।